সংবাদ শিরোনামঃ

লামা ফাঁসিয়াখালীতে ইয়াবাসহ ২ জনকে আটক করে পুলিশে দিল জনতা….

বান্দরবান জেলা লামা উপজেলা ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে ৫নং ওয়ার্ডের ফুটের ঝিরি এলাকা থেকে ইয়াবা সহ ২ জনকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। পরে আটক দুই ইয়াবা ব্যবসায়ীকে লামা থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে স্থানীয়রা। সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, আজ বৃহস্পতিবার রাত ১ টায় খবর পেয়ে লামা থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে গিয়ে দুই ইয়াবা ব্যবসায়ীকে আটক করে লামা থানায় নিয়ে আসে। তিনি বলেন, তিন জনের নামে মাদক আইনে মামলা হয়েছে। আদলতের মাধ্যমে ২জনকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। আটককৃতরা হলো, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে ৩নং ওয়ার্ডে ঘিলাতলী এলাকার নুরুল ইসলাম ও হোসনে আরা বেগম এর ছেলে মঞ্জুর আলম (২৬) ও একই এলাকার মৃত আব্দুল খালেক ও নুর আয়েশা বেগম এর ছেলে নুরুল কাদের (২৫)। এসময় একই এলাকার মুশতাক আহমেদ এর ছেলে মোঃ ইলিয়াস (২২) নামে এক মোটরবাইক চালক পালিয়ে যায়। প্রত্যেক্ষদর্শীরা জানায়, বুধবার দিবাগত রাত ৯ টার দিকে ৫নং ওয়ার্ডে ফুঁটেরঝিরি চকরিয়া পাহাড় এলাকা হতে ইয়াবা নিয়ে যাওয়ার সময় ১২ পিস ইয়াবা সহ হাতেনাতে দুইজনকে আটক করে জনতা। তারা ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে কুখ্যাত ইয়াবা সম্রাট হুমায়ূন চৌধুরীর বাড়ি থেকে ইয়াবা নিয়ে যাওয়ার সময় জনতার হাতে আটক হয়। ফাঁসিয়াখালীর কুখ্যাত ইয়াবা সম্রাট হুমায়ুন চৌধুরী দীর্ঘ দিন ধরে ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন তার বাড়িতে ইয়াবার আসর জমায়। ইয়াবা কেনাবেচা, সেবনসহ অনেক অনৈতিক কাজ করে যাচ্ছে তিনি। প্রতিদিন নিত্য নতুন মানুষনের আনাগোনা করে তার বাড়িতে। ইয়াবা কেনাবেচার নিরাপদ স্হান হওয়ায় অবাধে চালিয়ে যাচ্ছে ইয়াবা ব্যবসা। কিছু দিন আগে দৈনিক যুগান্তর, স্বদেশে পত্রিকা সহ অনেক জাতীয় ও স্হানীয় পত্রিকায় হুমায়ুন চৌধুরী ইয়াবা ব্যবসা নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। কিন্তু অদৃশ্য কারণে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নিরবতা দিয়ে প্রশ্ন তুলেন এলাকাবাসী। হায়দারনাশী গুলিস্তান বাজার সমবায় সমিতির লিমিটেড এর সভাপতি ও ফুঁটেরঝিরি এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জনাব জসিম উদ্দিন জানান, প্রতিদিন হুমায়ুন চৌধুরীর বাড়িতে ইয়াবার আসর জমায়। বিভিন্ন এলাকা হতে নিত্য নতুন মানুষের আনাগোনা দেখা যায়। মাঝে মধ্যে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আসা যাওয়া করে তার বাড়িতে। তার কারণে এলাকার স্কুল কলেজের ছাত্ররা বাদ যাচ্ছে না।তাছাড়া বাড়ির মেয়েরা ও নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছে। হুমায়ুন চৌধুরী বিষয়ে চকরিয়া পাহাড়ের বাসিন্দা দুদু মিয়া বলেন, আমারা কী কষ্টে আছি বুঝাতে পারবো না। হুমায়ুন চৌধুরীর কারণে উঠতি বয়েসী যুবকরা আজ ধ্বংসের পথে। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা হতে নতুন মানুষ আসা যাওয়া করে। যার কারণে আমরা নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছি। তিনি প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ মুখ খোলতে সাহস পাই না। এবিষয়ে ৩নং ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন আওয়ামিলীগ এর সাধারণ সম্পাদক ও ৩নং ওয়ার্ডের এম ইউ পি সদস্য জনাব, মুহাম্মদ হোছাইন মামুন বলেন, হুমায়ুন চৌধুরী ইয়াবা ব্যবসা নিয়ে আমরা অবগত আছি। গত ছয় মাসে আগে আইন শৃঙ্খলা মিটিং এ তার ইয়াবা বিষয়ে উপস্থাপন করি। সে যতবড় প্রভাবশালী হোক না কেন, ফাঁসিয়াখালীতে কাউকে ইয়াবা ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না। তিনি আরো বলেন, আমি সরকার দলের এক সাধারণ কর্মি হয়ে বলতে চাই, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মাদক বিষয়ে জিরো টলারেন্স ঘোষনা করেছে। কাউকে মাদক ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না। হয় মাদক ছাড়তে হবে, মা হয় এলাকা ছাড়তে হবে। এলাকাবাসী ঐক্যবদ্ধ হলে তাদের প্রতিহত করা সময়ের ব্যাপার। প্রসঙ্গত, ফাঁসিয়াখাীল এলাকা বাসী জানায়, লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের গুলিস্তান বাজার, হায়দারনাশী, ফুঁটেরঝিরি(চকরিয়া পাহাড়) , জলপাইতলী, অংশারঝিরি, বড়ছনখোলা, গিলাতলী,চা বাগান এলাকাসহ আরও বিভিন্ন জায়গায় ইয়াবা বেচাকেনার নিরাপদ জোনে পরিণত হয়েছে।

About Jisan Ali

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*