সংবাদ শিরোনামঃ

কোহিনুর ফ্যাক্টরির নকল ঘি’র রমরমা ব্যবসা, প্রতারিত হচ্ছে ভোক্তারা।

 নিজস্ব প্রতিনিধি ।

ঘ্রাণে বোঝার উপায় নেই কোনটি আসল আর কোনটি নকল ঘি। ডালডা, পাম অয়েল, নারিকেল তেল, ফ্লেভার, রং তার সাথে সামান্য পরিমাণে ঘি মিশিয়ে তৈরি হচ্ছে খাঁটি গাওয়া ঘি! এসব ঘি বাহারি নাম দিয়ে কৌটাজাত করা হচ্ছে। এরপর বিএসটিআইয়ের নকল সিল বসিয়ে অবাধে বাজারজাত করা হচ্ছে চট্টগ্রামের বিভিন্ন বাজারে। ডালডা আর পাম ওয়েল আবার কোন কোনটাতে পাওয়া যায় নারিকেল তেলের গন্ধ। কোন কোন ঘিয়ের কৌটার লেবেলে বিএসটিআইয়ের সিল নকল করে বসিয়ে দেয়া হয়েছে। একটি অসাধু চক্র এসব ভেজাল ঘি ক্রেতাদের ধরিয়ে দিয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। জানা যায়, বিয়ের অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ঘিয়ের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় একটি অসাধু চক্র ভেজাল ঘি তৈরি করে বাজারজাত করে আসছে। আর এসব ভেজাল ঘিতে সয়লাব নগরীর অধিকাংশ বাজার ও দোকান। দোকানিরাও এসবকে খাঁটি গাওয়া ঘি হিসেবে ক্রেতাদের হাতে ধরিয়ে দিচ্ছেন। এতে করে দোকানিরা আর্থিকভাবে লাভবান অন্যদিকে ঠকছে সাধারণ মানুষ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভেজাল পণ্যের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হলেও প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা চালাচ্ছে। এদিকে, একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী খাঁটি ঘিয়ের আদলে ডালডা ও রং ব্যবহার করে খাটি ঘাওয়া ঘি বলে বাজারে অস্বাস্থ্যকর ঘি তৈরি করে বিক্রি করে আসছিল কোহিনুর, কমেন্ড এন্ড মামুন কোম্পানী ফ্যাক্টরির মালিক পলাতক আসামী মোঃ এমদাদুল হক। সম্প্রতি বন্দর নগরী চট্টগ্রামের খুলশী থানাধীন লেকভিউ হাউজিং সোসাইটির নুরীয়া মাদ্রাসা লেইনস্থ ওই ফ্যাক্টরিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা বিপুল পরিমান নকল ঘি ও ঘি তৈরির নকল দ্রব্যসামগ্রী জব্দ করা হয়। এসময় নকল ঘি তৈরিকালে হাতেনাতে ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হল, হাজিবর রহমান (৫৫), পিতা- মৃত হাবিবুর রহমান, উজ্জ্বল শাহ (১৯), পিতা-শাহ্ সালামত, মোঃ জমির হোসেন (১৯), পিতা-মিলন মিয়া। নগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক বিশ্বজিৎ বর্মন জানান, কোহিনুর, কমেন্ড এন্ড মামুন কোম্পানীর ওই ফ্যাক্টরীতে গিয়ে দেখা যায়, গ্রেফতারকৃত আসামী’গণ সয়াবিন/পামওয়েল, ডালডা ও লাল রং একই সাথে একটি ষ্টীলের পাত্রে গ্যাসের চুলার উত্তপ্ত আগুনে মিশ্রিত করে ভেজাল ঘাওয়া ঘি তৈরি করছে। যাতে ঘাওয়া ঘি তৈরি প্রকৃত কোন উপাদান না থাকা সত্বেও উক্ত ফ্যাক্টরী মালিক পলাতক আসামী মোঃ এমদাদুল হক ভেজাল ঘাওয়া ঘি তৈরি করে ঘাওয়া ঘি/বাটার ওয়েল/গব্যঘৃত/কেরী ঘাওয়া ঘি/রেডী ঘাওয়া ঘি হিসাবে টিনের কৌটায় প্রক্রিয়াজাত করে করে বাজারজাত করে আসছিল। গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে খুলশী থানায় নিয়মিত মামলা হয়েছে। এদিকে, সম্প্রতি চট্টগ্রামের পর লক্ষ্মীপুরেও কোহিনুর কমেন্ড এন্ড মামুন কোম্পানীর বিপুল পরিমাণ ভেজাল ঘি আটক করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। শহরের হাসপাতাল সড়কের সংবাদ কুঠির নামের একটি দোকান থেকে কোহিনুর কোম্পানীর নকল ঘি’র চালান আটক করে জব্দ করে ভ্রাম্যমান আদালত। এ সময় রাজকুমার ও মহিউদ্দিন নামে কোম্পানীর দু’জন বিক্রয় প্রতিনিধিকে আটক করা হয়। জানা যায়, চট্টগ্রাম মহানগরীর খুলশী এলাকার কোহিনুর কমেন্ড এন্ড মামুন কোম্পানীর নামে উৎপাদিত‘কোহিনুর স্পেশাল গাওয়া-ঘি, কোহিনুর গাওয়া ঘি, কোহিনুর ভেজিটেবল ঘি, কোহিনুর ভেজিটেবল স্পেশাল ঘি, কোহিনুর বাটার ওয়েল’ নামে এসব নিম্ন মানের সামগ্রী দীর্ঘদিন যাবত লক্ষ্মীপুর জেলার ডেকোরেটর মালিকদের মাঝে বাজারজাত করে আসছে। লক্ষ্মীপুর জেলার ১১৪টি ডেকোরেটর কোম্পানীর বাবুর্চিরাই মূলত এসব নিম্নমানের ঘি’র প্রধান গ্রাহক। নিম্নমানের এসব ঘি বিক্রি করার জন্য কোহিনুর কোম্পানী জেলার ১১৪টি ডেকোরেটর কোম্পানীকে মেজবানীতে ব্যবহৃত মালামালের নাম উল্লেখ করে প্যাড ছাপিয়ে সরবরাহ করেছে। ছাপানো প্যাডে অন্যান্য মালামালের সাথে কোহিনুর ‘ঘি’ এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। কোহিনুর কোম্পানী ডেকোরেটর মালিকদের বিশেষ সুযোগ সুবিধা দিয়ে এসব ঘি তাদের মাঝে বিপনন করে আসছে বলে জানা গেছে। নিম্নমানের ঘি দিয়ে জেলার সর্বত্র মেজবানীর খাদ্যদ্রব্য রান্না করায় সর্বত্র রান্নার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে থাকে। যার কারণে বিষয়টি প্রশাসনের গোচরীভূত হয়। এর সূত্র ধরে ভ্রাম্যমান আদালত হাসপাতাল সড়কের সংবাদ কুঠির নামক একটি দোকান থেকে বিপুল পরিমাণ ঘি জব্দ করেন। এর আগেও চট্টগ্রামে কোহিনুর কমেন্ড এন্ড মামুন কোম্পানীর ঘি তৈরীর কারখানায় অভিযান চালিয়ে এক লাখ টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া শিরিন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের প্রতিষ্ঠিত একটি বেসরকারি টেলিভিশনের চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান এই কোহিনুর ঘি ব্যবসার সাথে জড়িত। প্রশাসন থেকে রক্ষা পেতে ওই কথিত সাংবাদিককে পরিচাকল নিয়োগ প্রদান করেন কোহিনুর মালিক পক্ষ। এ ছাড়া ওই কোম্পানির সব অবৈধ ব্যবসাকে প্রশাসন থেকে রক্ষা পেতে বড় অংকের একটা মাসোহারা দিয়ে থাকে ওই সাংবাদিককে। ভুক্তভোগিরা বলছেন, শস্যের ভেতর ভুত থাকলে সেই ভুত তাড়াবে কে?

About Jisan Ali

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*