সংবাদ শিরোনামঃ

ঠাকুরগাঁওয়ের বাড়ছে জ্বরের রোগী, করোনা পরীক্ষায় নেই আগ্রহ উপসর্গ নিয়েই অবাধে চলাফেরা আল মামুন।

বালিয়াডাংগী উপজেলা প্রতিনিধি

শহরের হাজিপাড়া এলাকার বাসিন্দা হ‌ুমায়ূন কবিরের (৫৩) পাঁচ দিন আগে প্রচণ্ড জ্বরের সঙ্গে মাথাব্যথা ও শরীরব্যথা শুরু হয়। তবে চিকিৎসককে দেখাননি তিনি। শহরের একটি ওষুধের দোকান থেকে তিনি নিজেই অ্যান্টিবায়োটিক, প্যারাসিটামলসহ আরও কয়েকটি ওষুধ কিনে খেয়েছেন। এখন জ্বর সেরে গেলেও শরীরে দুর্বলতা ও মাথা ঘোরা রয়েই গেছে। করোনা পরীক্ষার ভয়ে তিনি চিকিৎসকের কাছে যাননি বলে জানালেন। জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর তিনি শহরের বাজারসহ বিভিন্ন লোকসমাগমস্থলে ঘুরে বেড়িয়েছেন বলেও স্বীকার করেছেন। বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দুওসুও গ্রামের আল মামুন বলেন, কয়েক দিন ধরে তাঁর পরিবারের তিনজন জ্বর–কাশিতে ভুগছেন। চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ সেবনে কিছুটা উন্নতি হলেও তাঁরা পুরোপুরি সুস্থ হননি। এ অবস্থায় চিকিৎসক তাঁদের করোনা পরীক্ষার জন্য পরামর্শ দিলেও তাঁরা পরীক্ষা করাননি। মামুন বলেন, পরীক্ষার পর করোনা ধরা পড়লে বাড়ি লকডাউন করে দেবে। কোথাও প্রয়োজনে বেরও হওয়া যাবে না। শহরের পৌর এলাকা ও বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দুওসুও, ভানোর, চাড়োল বড়পলাশবাড়ি এলাকার কয়েকটি ওষুধের দোকানে বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দোকানে জ্বরের ওষুধ বিক্রি ব্যাপক হারে বেড়ে গেছে। শহরের শহীদ মোহাম্মদ আলী সড়কের ওষুধের দোকান জাওয়াদ ফার্মেসির মালিক মোহাম্মদ জুয়েল বলেন, জ্বরে আক্রান্ত বেশির ভাগ রোগী বা রোগীর স্বজন চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে দোকানে এসে উপসর্গের কথা বলে ওষুধ নিয়ে যাচ্ছেন। বিষয়টি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। সামাজিক হেনস্তার শিকার হওয়ার ভয় থেকে জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তিদের বেশির ভাগেরই করোনা পরীক্ষায় নেই ঠাকুরগাঁও জেলায় ১৮ লাখ লোকের বসবাস। জেলা সদর ছাড়া বাকি চারটি উপজেলাই সীমান্তবর্তী। সেই তুলনায় এখন পর্যন্ত করোনা পরীক্ষা হয়েছে ১০ হাজার ৭৬৩টি। পরীক্ষার হার কম হওয়ায় করোনার প্রকৃত চিত্র বোঝা যাচ্ছে না। ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের চিকিৎসক রাকিবুল আলম বলেন, চিকিৎসা দিতে গিয়ে রোগীদের কাছ থেকে তিনি জেনেছেন, গ্রামের ঘরে ঘরে মানুষের জ্বর হচ্ছে। তাঁদের অধিকাংশই এলাকার ওষুধের দোকান থেকে ওষুধ কিনে খেয়ে সুস্থ হচ্ছেন। যাঁদের শ্বাসকষ্টসহ সমস্যা বেড়ে যাচ্ছে, তাঁরাই কেবল চিকিৎসা নিতে আসছেন। তিনি জ্বরে ভোগা রোগীদের করোনা পরীক্ষার পাশাপাশি বাড়িতে আইসোলেশনে থাকার পরামর্শ দেন। ঠাকুরগাঁওয়ের সিভিল সার্জন মাহফুজার রহমান সরকার বলেন, ‘জেলায় জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। আবহাওয়ার কারণেও এটা হতে পরে। তবে এলাকায় করোনা সংক্রমণের বিষয়টিও আমরা অবজ্ঞা করতে পারছি না। সবার করোনা পরীক্ষার ব্যাপারে সচেতন হওয়া প্রয়োজন।’

About Jisan Ali

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*