সংবাদ শিরোনামঃ

বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের ৫০ তম শাহাদাত বার্ষিকী আজ।

মোহাম্মদ আবির ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি।

বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামালের ৫০ তম শাহাদাত বার্ষিকী আজ। ১৯৭১ সালের এই দিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় দরুইন গ্রামে পাকবাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ হন তিনি। ১৯৪৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর ভোলা জেলার দৌলতখান উপজেলার হাজিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মোস্তফা কামাল। পিতা হাবিলদার মো. হাবিবুর রহমান ও মাতা মালেকা বেগম। ৫ ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। তাঁর স্ত্রীর নাম পিয়ারা বেগম। দিবসটি উপলক্ষে ১৮ এপ্রিল রবিবার আখাউড়া দরুইন গ্রামে তার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ দোয়া মোনাজাত করা হয়। আখাউড়া টেলিভিশন জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন ও আখাউড়া উপজেলা প্রেসক্লাব পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন আখাউড়া মোগড়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মনির হোসেন, আখাউড়া টেলিভিশন জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি সাইফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক জালাল হোসেন মামুন, মোহনা টিভির আখাউড়া প্রতিনিধি মোশাররফ হোসেন, আখাউড়া উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতি জুয়েল মিয়া,সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবির,সাংগঠনিক সম্পাদক রুবেল আহমেদ,সহ সভাপতি ইসমাইল হোসেন, যুগ্ন সাধারন সম্পাদক হাসান মাহমুদ পারভেজ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আল আমিন প্রমূখ। উল্লেখ্য বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল ১৯৬৭ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ১৯৭১ সালের ৭ ই মার্চ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণে সাড়া দিয়ে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ১৬ এপ্রিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাকহানাদার বাহিনীর আক্রমণ ঠেকাতে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দল সিপাহী মোস্তফা কামালের নেতৃত্বে আখাউড়া দরুইন গ্রামে অবস্থান নেন। ১৮ এপ্রিল সকাল থেকে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয় একদিকে বৃষ্টি অন্যদিকে পাকহানাদার বাহিনীর গুলি ছুড়তে থাকে। শুরু হয় সম্মুখ যুদ্ধ হানাদার বাহিনীর গুলির আঘাতে একজন মুক্তিযোদ্ধা গুলিবিদ্ধ হন মেশিনগান চালানো অবস্থায়। মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুর পর মেশিনগান চালানোর দায়িত্ব গ্রহণ করেন সিপাহী মোস্তফা কামাল যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে সাথে থাকা অপর মুক্তিযোদ্ধাদের স্থান ত্যাগ করে চলে যাওয়ার নির্দেশনা দেন মোস্তফা কামাল।তার সঙ্গী সাথীরা স্থান ত্যাগ করে চলে গেলে সে একাই যুদ্ধ পরিচালনা করে এক পর্যায়ে মেশিনগানের গুলি শেষ হয়ে গেলে শত্রুপক্ষের গুলির আঘাতে তার বুকে লাগে সাথে সাথেই তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকার তাঁর অসীম সাহসের জন্য বীরশ্রেষ্ঠ সম্মাননা প্রদান করে। তার সাহসিকতার জন্য অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা প্রাণে বেঁচে যান।

About Jisan Ali

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*