সংবাদ শিরোনামঃ

যুক্তরাষ্ট্র ইরাক থেকে ‘পালানোর’ পথ খুঁজছে

ইরাক থেকে সম্মানজনক উপায়ে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের জন্য হন্যে হয়ে নিরাপদ পথ খুঁজছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যা করার পর ট্রাম্প ইরাক থেকে সেনা প্রত্যাহারের প্রচেষ্টা জোরদার করেছেন।

সিরিয়ায় নিযুক্ত ব্রিটেনের সাবেক রাষ্ট্রদূত পিটার ফোর্ড ইরানের প্রেস টিভির টকশো অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেছেন।

ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের দাবিতে শুক্রবার রাজধানী বাগদাদে শিয়া আলেম মুক্তাদা সাদরের ডাকে অন্তত ২৫ লাখ মানুষের বিক্ষোভ-সমাবেশ হয়েছে।

পিটার ফোর্ড বলেন, ইরাকের জাতীয় সংসদে সুস্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের প্রস্তাব পাস করা হয়েছে। মার্কিন সরকার সবসময় গণতন্ত্রের কথা বলে থাকে এবং যেসব দেশে সত্যিকারের সংসদ নেই নেতাদের সমালোচনা করে থাকে। সে ক্ষেত্রে ইরাকের সংসদে পাস হওয়া এই প্রস্তাবকে তারা লংঘন করতে পারবে না। যদি তারা ইরাকি সংসদের প্রস্তাবকে উপেক্ষা করে তাহলে প্রকৃতপক্ষে তারা গণতন্ত্রকেই অপমান করবে।

পিটার ফোর্ড আরো বলেন, একথা খুবই স্পষ্ট যে, ইরাকের বেশিরভাগ মানুষ তাদের দেশে মার্কিন সেনাদের উপস্থিতি দেখতে চায় না। এটি তাদের জন্য অসম্মানের ব্যাপার। আমি মনে করি মার্কিন প্রশাসন এখন আর ইরাকে দীর্ঘদিন সেনা মোতায়েন রাখার কথা চিন্তা করবে না। আমার মনে হয়, তারা এখন মুখ রক্ষার চেষ্টা করছে এবং সম্মান বাঁচিয়ে ইরাক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবে। সে ক্ষেত্রে মার্কিন প্রশাসন হয়তো ন্যাটোর হাতে দায়িত্ব তুলে দিতে পারে। কিন্তু তাও ইরাকের জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে বলে মনে হয় না। ট্রাম্প ভিয়েতনামের মতো ইরাকে রাজনৈতিকভাবে অপমানিত হতে চান না।

ব্রিটেনের সাবেক রাষ্ট্রদূত আরো বলেন, আমেরিকা উগ্র সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নামে তারা ইরাকে সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখার চেষ্টা করে আসছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে যে, ইরাকের নিরাপত্তা বাহিনী উগ্রবাদী তাকফিরি সন্ত্রাসীদের মোকাবেলা করতে সক্ষম।

ইরানের কুদস ফোর্সের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার বিষয়ে মন্তব্য করে সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত বলেন, এটি একটি অত্যন্ত অন্যায় কাজ হয়েছে যার পরিপ্রেক্ষিতে ইরান আমেরিকার দুটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে এবং এর মধ্যদিয়ে এটা প্রমাণ করার সুযোগ পেয়েছে যে তাদের কাছে কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি রয়েছে যা দিয়ে তারা তাদের সাহস ও প্রতিশ্রুতি পূরণের বিষয়টি প্রমাণ করে দিয়েছে।

About Jisan Ali

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*