সংবাদ শিরোনামঃ

‘তথ্য অনুসন্ধানে সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ সাহসী ও আন্তরিক হতে হবে’

index
নিজস্ব
প্রতিবেদক
:-  প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেছেন, বর্তমানে প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসারের কারণে গণমাধ্যমের বহুমুখীতা সাংবাদিকতায় নতুন ধারার সূচনা করেছে, তাই তথ্য অনুসন্ধানে সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ, সাহসী ও আন্তরিক হতে হবে। সোমবার দুপুরে তথ্য উপদেষ্টা খুলনা প্রেসক্লাবের বার্ষিক সাধারণ সভার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, এই মাসটি ভাষার মাস। ভাষা শহীদরা তাদের বুকের রক্ত দিয়ে বাংলাকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। স্বাধীনতার পর থেকেই স্বাধীন সংবাদপত্রের বিকাশ ঘটেছে। খুলনা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে যে টেরাকোটা আছে তা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে প্রকাশ করে। খুলনা প্রেসক্লাবে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে, যা অন্য কোন প্রেসক্লাবে নেই। খুলনা প্রেসক্লাব তাই ভাষা আন্দোলন, স্বাধীকার আন্দোলন আর বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে আছে।
তিনি বলেন, খুলনা অঞ্চলের সাংবাদিকরা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করে আসছে। ইতিপূর্বে সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু, মানিক সাহা, বেলালসহ অনেকেই এ পেশায় প্রাণ দিয়েছেন। গণতন্ত্রকে সমুন্বত রাখা এবং সত্যকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য তিনি আজকের প্রজন্মের সাংবাদিকদের শাহাদাতবরণকারী, অকুতোভয় সেই সব সাংবাদিকদের অনুসরণ করার আহবান জানান।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ এবং গঠনমূলক সমালোচনা যেমন রাজনৈতিক নেতৃত্বকে উৎসাহিত করে তেমনি অসত্য, তথ্য বিবর্জিত সংবাদ জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। সাংবাদিকদের নিরপেক্ষতার প্রশ্নে আপসহীন কিন্তু মানুষের অধিকার এবং গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখার জন্য দায়িত্বশীল হতে হবে। বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রেখে যে কোন সাম্প্রদায়িকতা এবং অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে সাহসিকতার সাথে কলম সৈনিকদের কাজ করতে হবে। প্রেসক্লাবের সদস্যদের দাবি অনুযায়ী তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপনের জন্য খুলনা প্রেসক্লাবের উন্নয়নের একটি প্রস্তাবনা প্রস্তুত করার আহবান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। তিনি বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত পদ্মা সেতুর কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। রেল লাইন এবং মংলা পোর্টের আধুনিকায়নের কাজও চলমান। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে চলমান উন্নয়নের এ অগ্রযাত্রায় সাংবাদিকদেরও লেখনির মাধ্যমে ভূমিকা রাখার জন্য তিনি আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ মিজানুর রহমান, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র আনিসুর রহমান বিশ্বাস, প্রবীণ সাংবাদিক মনিরুল হুদা, ওয়াদুদুর রহমান পান্না, খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মকবুল হোসেন মিন্টু, এসএম জাহিদ হোসেনসহ অন্যান্য সদস্যগণ। এতে সভাপতিত্ব করেন খুলনা প্রেসক্লাবের আহবায়ক শেখ আবু হাসান। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন খুলনা প্রেসক্লাবে সদস্য সচিব মো. মুন্সি মাহবুব আলম সোহাগ।

About Asgor Ali Manik

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*