সংবাদ শিরোনামঃ

পিরিয়ডের কথা !

লেখক ইরফানুল ইসলাম জিসান

পৃথিবীর সব ছেলেরা একবার-মাত্র একবার যদি পিরিয়ডের ৩ দিনের যন্ত্রনা ভোগ করত, তাহলে মেয়েরা নিত্যদিনের বেঁচে থাকা আর একটু অপমানের হাত থেকে রেহাই পেত….তলপেট চেপে ধরে শরীর উল্টানো ব্যথার কান্না কতটা ভয়ঙ্কর তা খুড়িয়ে হাঁটতে দেখে মুচকি হাসি দিত না। হাতটা ধরে রাস্তা পার করে দিত….যদি টের পেত কি সাংঘাতিক কষ্ট নিয়ে একটা মেয়ে মাসিকচক্রের ওই ৫ থেকে ৬ দিনের সময়টা পার করে! চিটচিটে—গা- ঘিনঘিনে একটা অস্বস্তিকর অবস্থা নিয়ে অফিস, সংসার,  ক্লাস, মাটিকাটা,ইটভাঙা ইত্যাদি সবকিছু রুটিন মেনেই করে যায়। তাহলে অন্তত এটাকে নিয়ে কিছু লোক উপহাস করত না।রক্তের ছাপ শাড়িতে, কামিজে,প্যান্টে দেখলেই খুব হাসাহাসি করে অনেকে,হেসে অন্যের গায়ে পড়ে বলতে শুনেছি, তোর কি মাসিক চলতেছে? আজকে কয় দিন???কিন্তু একটাবারো ভেবে দেখে না।

এই সময়টা আসে বলেই, এই কষ্টটা হয়- বলেই কিন্তু আমাদের মত সন্তানদের জন্ম হয়। আর আমরাই এটাকে হাসির খোরাক বানিয়ে ফেলি।কোন দোকান থেকে ন্যাপকিন বা প্যাড কিনতে দেখলেই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেটা বলে উঠে,পাউরুটির প্যাকেট নাকি। ঐটা বলেই হাসাহাসি শুরু করে দেয়।কিন্তু একটা বারও যদি বুঝতো-ঐ পাউরুটির মত ন্যাপকিন বা প্যাডটা ব্যবহার করতে গিয়ে তাদের কতটা বিরক্তিকর অবস্থার ভিতর দিয়ে কাটাতে হয়।তুমি একটা মেয়েকে ন্যাপকিন কিনতে দেখে মজা করতেছো ‼ কিন্তু তুমি মাত্র দুই ঘন্টা একটা ন্যাপকিন আন্ডারওয়ারে লাগিয়ে বাহির দিয়ে হেঁটে বুঝবা, কত বড় বাঘের বাচ্চা ‼আমার বড় আম্মুর পিরিয়ড হয়েছে বলেই আমার নানির  জন্ম, আমার নানির পিরিয়ড হয়েছে বলেই আমার মায়ের জন্ম,আমার মায়ের পিরিয়ড হইছে বলেই আমার জন্ম…।তাই এটাকে নিয়ে ঠাট্টা বা উপহাস করার মত কোন বিষয় নয়,অবশেষে একটা কথাই বলতে চাই।একজন নারী যে পরিমান শারিরিক কষ্ট বা যন্ত্রনা ভোগ করে থাকে তার অর্ধেকটা যদি কোন পুরুষ পেতো তবে বেঁচে থাকার নামও মুখে নিতো না আর। তাই এটাকে নিয়ে হাসি ঠাট্টা না করে,তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হোন,সম্মান টা দিতে শিখুন।।

About Jisan Ali

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*