সংবাদ শিরোনামঃ

কাপ্তাই সড়ক যেন মৃত্যুের ফাঁদ।।

নেজাম উদ্দিন-রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

কাপ্তাই রাস্তার মাথা থেকে লিচু বাগান পর্যন্ত সড়কটা একসময় ছিল বেহাল দশা। রাস্তাঘাটে যাতায়াত করতে সময় লেগে যেত প্রচুর। বর্তমান উন্নয়নের ছোয়ার সড়কটা বেশ উন্নত হওয়ার পর ও দিন দিন দূর্ঘটনা বেড়ে চলছে। বেপরোয়া গাড়ি চালকদের কারণে চলছে নিত্য-নতুন দূর্ঘটনায়। একামাসে এই পর্যন্ত মৃত্যুের সংখ্যা দাড়াল ১৪জন। গেল সপ্তাহে ট্রাক-সিনজি সংঘর্ষে রাঙ্গুনীয়া প্রাণহানি ঘটে ৪ জন। যেখানে শিশুসহ নিহত। আহত হয়েছে ছিল ৫ জন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করে একজন। রাঙ্গুনীয়া সড়ক দূর্ঘটনায় মৃত্যুের রেশ কাটতে না কাটতে বুধবার ৩১ শে মার্চ রাঙ্গুনিয়া -রাউজান সড়ক দমদমা নামক স্থানে আবারো ট্রাক-সিনজি সংঘর্ষে প্রাণহানি ঘটে ৪ জনের। সড়ক দূর্ঘটনা যেন পিছে ছাড়ছে না এই কাপ্তাই সড়কে। এই নিয়ে মার্চ মাসে কাপ্তাই সড়কে ট্রাক-সিনজি, বাইক, অটোরিকশা বিভিন্ন যানবাহনের দূর্ঘটনায় প্রাণ ঝড়ে ১৪ জন, আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছে ২৬ জনের অধিক। কাপ্তাই সড়কে বার বার সড়ক দূর্ঘটনা জন্য দায়ী কারা প্রশ্ন উঠেছে সচেতন মহলের। যাত্রী নাকি ড্রাইবার! হাসপাতালে কাতরাচ্ছে অনেকে। কখনো বেপরোয়া বাইক দূর্ঘটনা কিংবা যাত্রীর গাফিলতির কারনে কাপ্তাই সড়কে মৃত্যুর মিছিল বেড়ে চলছে। সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে মূলত , ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন; বেপরোয়া গতি; চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা, অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা; বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট না থাকা; মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল; তরুণ ও যুবদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো; জনসাধারণের মধ্যে ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানার প্রবণতা; দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা; বিআরটিএ’র সক্ষমতার ঘাটতি এবং গণপরিবহণ খাতে চাঁদাবাজি। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে বেশকিছু পরামর্শ মনে করেন সচেতন মহল । সেগুলো হলো— দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ বাড়াতে হবে; চালকের বেতন ও কর্মঘন্টা নির্দিষ্ট করতে হবে; বিআরটিএ’র সক্ষমতা বাড়াতে হবে; পরিবহনের মালিক-শ্রমিক, যাত্রী ও পথচারীদের প্রতি ট্রাফিক আইনের বাধাহীন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে; মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল বন্ধ করে এগুলোর জন্য আলাদা পার্শ্বরাস্তা তৈরি করতে হবে; পর্যায়ক্রমে সকল মহাসড়কে রোড ডিভাইডার নির্মাণ করতে হবে; গণপরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে; রেল ও নৌ-পথ সংস্কার ও সম্প্রসারণ করে সড়ক পথের ওপর চাপ কমাতে হবে; টেকসই পরিবহন কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে এবং ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’র সুষ্ঠু প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। গেল বছরে শুধু সড়ক দুর্ঘটনাই ঘটেছে ৪ হাজার ৭০২টি। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ৫ হাজার ২২৭ জন। ২০১৯ সালে রেলপথে ১৬২টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ১৯৮ জন, আহত ৩৪৭ জন। নৌপথে ৩০টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ৬৪ জন এবং আহত হয়েছে ১৫৭ জন আর নিখোঁজ ১১০ জন। তবে আকাশপথে গত বছর কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। গত বছর এক হাজার ৩৭৮টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় এক হাজার ৪৬৩ জন নিহত হয়েছেন। যা মোট নিহতের ২৬ দশমিক ৯৩ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ২৯ দশমিক ১০ শতাংশ। দুর্ঘটনায় এক হাজার ৫১২ জন পথচারী নিহত হয়েছে। যা মোট নিহতের ২৭ দশমিক ৮৪ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৬৮৩ জন। অর্থাৎ মোট নিহতের ১২ দশমিক ৫৭ শতাংশ। গত বছরব্যাপী ১১৯টি নৌ-দুর্ঘটনায় ২৭২ জন নিহত, ১৩৭ জন আহত ও ৬২ জন নিখোঁজ হন। ১০৮টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ২২৮ জন নিহত ও ৫৪ জন আহত হন। মোট দুর্ঘটনার মধ্যে পাঁচ দশমিক ২৩ শতাংশ ঘটেছে ভোরে, ৩২ দশমিক ৮৮ শতাংশ সকালে, ১৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ দুপুরে ২০ দশমিক ০৪ শতাংশ বিকেলে, নয় দশমিক ৭৫ শতাংশ সন্ধ্যায় এবং ১৭ দশমিক ৭১ শতাংশ ঘটেছে রাতে।

About Jisan Ali

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*