সংবাদ শিরোনামঃ

কালিয়াকৈরে শিশু ধর্ষণের চেষ্টা, প্রতিবাদ করায় শিশুর পরিবারকে মারধরের অভিযোগ

ক্রাইম রিপোর্টার:
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার রাখালিয়াচালা এলাকায় মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার প্রতিবাদ করায় স্থানীয় এলাকার কয়েকজন মাতাব্বর ওই শিশুর পরিবারকে মারধর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার পর স্থানীয় প্রভাবশালী ওই মাতাব্বরগন ধর্ষক এরশাদ মিয়াকে ছাড়িয়েও নিয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত এরশাদ মিয়া রংপুর জেলার সদর থানার মধ্যপাড়া এলাকার মৃত-রমজান আলীর ছেলে। তিনি রতনপুর এলাকার রাসেলের বাড়ীতে ভাড়া থেকে রাজমিস্ত্রির কাজ করতো। ওই শিশুর পরিবার ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, কালিয়াকৈরের রাখালিয়াচালা এলাকার জুয়েল মিয়ার শিশু কন্যা গত মঙ্গলবার বিকেলে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় পড়তে যাচ্ছিল। এসময় যাওয়ার পথে এরশাদ মিয়া(২৫) নামের এক যুবক ওই শিশু কন্যার পথরোধ করে। পরে ওই শিশুকে ধর্ষনের চেষ্টা চালায়। এসময় ওই শিশুর ডাকচিৎকারে তার মা-বাবা এগিয়ে এসে অভিযুক্ত এরশাদ মিয়াকে ধরে ফেলে। পরে বিষয়টি স্থানীয় ইকবাল মিয়া, লালন, মিলনসহ কয়েকজন মাতাব্বর শ্রেনীর লোক অভিযুক্ত এরশাদ মিয়াকে ওই শিশুর পরিবারের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নেয়। এসময় বাধা দিলে ইকবাল,মিলন, লালন ওই শিশুর বাবা-মাকে মারধর করে আহত করে। পরে তারা অভিযুক্ত এরশাদকে জোর করে তাদের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। পরে বিষয়টি মিমাংসা করার জন্য স্থানীয় মাতাব্বর গন দায়িত্ব দেন বলে স্থানীয় সুত্র জানায়। ওই শিশুর মা মালা বেগম জানান, আমার শিশু মেয়ে মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে এরশাদ নামের ওই যুবক তার শরীরে হাত দেয়। পরে তার ডাকচিৎকার শুনতে পেয়ে এগিয়ে এসে লম্পটকে জিজ্ঞাসা করি । এসময় আমার স্বামী এসে এর প্রতিবাদ করায় এলাকার ইকবাল, লালন, মিলনসহ কয়েকজন আমার স্বামীসহ আমাকে বেদম মারপিট করে। পরে এরশাদকে তারা ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। এবিষয়ে এলাকার সাদ্দাম হোসেন বলেন, বিষয়টি জানার পর অভিযুক্ত এরশাদকে ডেকে জিজ্ঞাসা করার সময় ওই শিশুর বাবা এসে এরশাদকে মারপিট করায় ওই শিশুর পরিবারকে শাসন করা হয়েছে। তাদের মারপিট করা হয়নি। তাছাড়া বিষয়টি পরে বসে এলাকায় নজরুল ইসলাম ,কামাল হোসেনসহ কয়েকজন মীমাংসা করার কথা রয়েছে। ঘটনার পর এরশাদকে এলাকার কামাল ভাই মটরসাইকলে দিয়ে নিয়ে গেছে। এ ববিষয়ে ইকবালের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে রাখালিয়াচালা আওয়ামীলীগ গ্রাম কমিটির সভাপতি নুর মোহাম্মদ মধু বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। এর বেশিকিছু জানিনা। তবে বিষয়টি নাকি বৃহস্পতিবার মীমাংসা করার কথা রয়েছে। মীমাংসা করছে কিনা আমার জানা নেই। কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, ওই ঘটনায় অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। 

About Jisan Ali

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*