সংবাদ শিরোনামঃ

কোতোয়ালী থানা পুলিশ যখন রিক্সাচালক!

 আনিছুর রহমান হীরু(ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি )

আসামী ধরতে কত কৌশলই না নিতে হয় পুলিশের। তেমনি কোতোয়ালী থানার টিম কোতোয়ালীর সদস্য তিন এএসআই রনেশ বড়ুয়া, নুরুন নবী ও সাইফুল ইসলাম পুলিশের লোক হয়েও রিকশা চালিয়েছেন! অভাবে নয়; স্বভাবেই রিকশা চালাচ্ছিলেন! কেউ চালক কেউ আবার যাত্রী। ভাড়াও আদান প্রদান করছেন স্বভাবসুলভ ভাবেই। গতকাল সারাদিন রিকশা চালিয়েছেন। দিন শেষে আয় বলতে সাজাপ্রাপ্ত এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার! দক্ষিণ আফ্রিকা ফেরত ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতারে গতকাল দিনভর রিকশা নিয়ে ঘুরেছেন। আর রাতে ফিরেছেন সাজাপ্রাপ্ত সেই আসামিকে নিয়েই। আজ মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর কোতোয়ালী থানা সূত্রে জানা যায়, গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ৯ টার দিকে পতেঙ্গা থানার কাটগড় এলাকা থেকে সাজাপ্রাপ্ত আসামি আবু বক্কর সিদ্দিক মামুনকে গ্রেপ্তার করেছে এএসআই রনেশ বড়ুয়া, নুরুন নবী ও সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে কোতোয়ালী থানার বিশেষ টিম। এই ব্যাপারে কোতোয়ালী থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন বলেন,কোতোয়ালী থানার ঘাটফরহাদবেগ এলাকার দক্ষিণ আফ্রিকা ফেরত আবু বক্কর সিদ্দিক মামুন বাকলিয়া থানার একটি মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হন ২০১১ সালে। পরে ২০১৭ সালে মামলার রায়ে তার ৫ বছরের সাজা হয়। কিন্তু সে নিজ বাড়িতে থাকে না,অনেক দিন ধরেই খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। আমরাও হাল ছাড়িনি, নতুন করে গোপন তথ্য পাওয়ার পর ছদ্মবেশে কৌশলে তাকে গ্রেপ্তার করতে এএসআই সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি টিম রেডি করি এবং সেই মোতাবেক অভিযান চালাই। ওসি মহসীন আরও বলেন, গত তিন দিন আগে থেকে সম্ভাব্য সব অবস্থানে অভিযান চালিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। অবশেষে কৌশল পরিবর্তন করে রিকশা চালকের ছদ্মবেশে তাকে কাটগড় থেকে গ্রেপ্তারে সক্ষম হয় টিম কোতোয়ালী। অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া এএসআই সাইফুল ইসলাম বলেন, আসামী আবু বক্কর সিদ্দিক মামুনকে গ্রেপ্তারে বারবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছিলাম। আমরা তার কল রেকর্ড, ছবি সংগ্রহের পরও তাকে আটক করা যাচ্ছিলোনা। সর্বশেষ খবর পাই যে সে পতেঙ্গার কাটগড় এলাকায় ভাড়া বাসা নিয়েছে। সেখানে আমরা তিনজন রিকশা চালক আর যাত্রীর ছদ্মবেশে সোমবার দুপুর থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান নিই। স্বাভাবিক যাত্রী ও চালকের মতই স্বভাবসুলভ ভাবে ভাড়া আদান প্রদান করি। খুব সাবধানে অভিনয়টা চালিয়ে যাচ্ছিলাম আমরা তিনজন। তিনি আরও বলেন, কেউ যাতে আমাদেরকে কোন প্রকারের সন্দেহ করতে না পারে সেজন্য খুবই সতর্কতা অবলম্ভন করে ছিলাম।এক পর্যায়ে আমাদের রিকশার পাশ দিয়েই হেঁটে চলে যাবার সময় আসামি আবু বক্করকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই।

About Jisan Ali

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*