সংবাদ শিরোনামঃ

বিপদের দিনের বন্ধু

৬ বছর পর গত সপ্তাহে ওয়েব সিরিজ ‘মরীচিকা’য় একসঙ্গে অভিনয় করলেন সিয়াম আহমেদ ও ফারহান জোভান। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই দুজন ভালো বন্ধু। তাঁদের বন্ধুত্বের গল্প লিখেছেন মীর রাকিব হাসান

১৫ অক্টোবর, ২০২০| পড়া যাবে ৫ মিনিটে

প্রথম দেখা ২০১২ সালে, আদনান আল রাজিবের নির্মাণে ‘রুচি ঝুরি ভাজা’র বিজ্ঞাপনচিত্রের অডিশন দিতে গিয়েছিলেন দুজনই। সেদিনই পরিচয় এবং বন্ধুত্ব। সেই অডিশনে তাঁদের সঙ্গে পরিচয় হয় তৌসিফ মাহবুবেরও। বন্ধুত্বটা গাঢ় হয় আরো কিছুদিন পরে। জোভানের বাসার পাশেই সিয়ামের কাজিনের বাসা। প্রায়ই সেখানে যেতেন সিয়াম। তখন তো আর এখনকার মতো ব্যস্ত ছিলেন না কেউই। রাত-দিন আড্ডা হতো। সেই আড্ডাতেই একে-অন্যের ভালোমন্দ জেনেছেন, জানা হয়েছে শৈশবের গল্পগুলোও।

সেসব দিনের স্মৃতি রোমন্থন করলেন জোভান, ‘আমি ছোটবেলা থেকেই গিটার বাজাতে পছন্দ করি। সিয়াম ভালো গাইতে পারে। আমি বাজাতাম আর ও গাইত। এভাবে যে কত সময় কেটেছে আমাদের! রাস্তার পাশে আড্ডা দিয়েছি, খেয়েছি। সেই দিনগুলো  আর আসবে না। এখন তো ওভাবে রাস্তার পাশে বসে আরাম করে আড্ডা দিতে পারব না।’

মডেলিংয়ের পর একসঙ্গেই তাঁদের অভিনয় ক্যারিয়ারও শুরু। আতিক জামানের ধারাবাহিক নাটক ‘ইউনিভার্সিটি’র অডিশন দিতে গিয়েছিলেন একসঙ্গে। দুজনই দুটি চরিত্রে সিলেক্ট হলেন। যদিও তিন দিন শুটিং করে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে আর কন্টিনিউ করেননি সিয়াম। প্রথম ধারাবাহিকেই পরিচিতি পান জোভান। এরপর আবার দুই বন্ধু একসঙ্গে দীর্ঘদিন অভিনয় করেন মাবরুর রশিদ বান্নাহর ধারাবাহিক ‘নাইন অ্যান্ড আ হাফ’-এ। ‘এই ধারাবাহিকটি আমাদের দুজনের ক্যারিয়ারেরই টার্নিং পয়েন্ট। শুটিংয়ের সেই দিনগুলো আমাদের আজীবন মনে থাকবে। আমরা তেমন পরিচিত মুখ ছিলাম না। বান্নাহ ভাই আমাদের সিলেক্ট করে রিস্ক নিয়েছিলেন। আমরাও নিজেদের প্রমাণ করার চেষ্টা করেছি। যখন শট থাকত না, বসে পরিকল্পনা করতাম পরবর্তী সময়ে কী করব’, বললেন সিয়াম।

‘কখনো এ রকম নির্জন দুপুর আসে’, ‘টু লেট ব্যাচেলর’, ‘কালারস অব লাভ’ ও ‘ত্রিভুজ প্রেম’ নাটকে একসঙ্গে অভিনয় করেছেন। এর বাইরে একসঙ্গে খুব বেশি কাজ হয়নি তাঁদের। সিয়াম বলেন, ‘আমাদের স্ট্রাগলিং পিরিয়ড একসঙ্গে কেটেছে। শুরুর দিকে যা হয়, অনেক সময়ই হতাশ হতে হয়েছে। ভেঙে পড়েছি। একে অন্যকে যতটা পেরেছি সাহায্য করেছি, শক্তি দিয়েছি। অনেক অডিশনে ও যেতে চাচ্ছে না, হাল ছেড়ে দিয়েছে। আমি জোর করে ওকে নিয়ে গেছি। আবার আমার ক্ষেত্রেও এমন হয়েছে। আমরা আসলে বিপদের দিনের বন্ধু।’

মাঝে উচ্চতর পড়াশোনার জন্য যুক্তরাজ্যে চলে যান সিয়াম। জোভান টেলিভিশন নাটকে নিজের পরিচিতি বাড়াতে থাকেন। পড়াশোনা শেষে দেশে ফেরার পর ক্যারিয়ারের চাকা ঘুরে যায় সিয়ামের। একের পর এক সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব পেতে থাকেন। সিয়াম থিতু হলেন সিনেমায়। দুই বন্ধুর মাঝে দূরত্বও বাড়তে থাকে। তবে সেটা মনের দূরত্ব নয়। মন-কষাকষি কি একেবারেই হয়নি? ‘বন্ধুত্ব থাকলে মন-কষাকষি, রাগ, অভিমান হবে—সেটাই স্বাভাবিক। প্রিয়জনদের সঙ্গেই রাগ, অভিমান হয়। তবে যা হয়েছে, সেটা আমাদের চেয়ে আশপাশের মানুষের কারণেই বেশি হয়েছে। নামগুলো এখন বলতে চাচ্ছি না। বেশ লম্বা তালিকা’, সিয়ামের এই কথার সঙ্গে একমত জোভানও।  জোভান বলেন, ‘এখন দেখা হয় কম। শিডিউল মিলিয়েও দেখা করতে পারি না। কিন্তু যখন দেখা হবে তখন আমরা সেই আগের মতোই। কেউ দেখলে মনে করবে আমরা হয়তো প্রতিদিনই দেখা করি। নিয়মিত দেখা না হলেও ওর সব খবর রাখি। হয়তো ওর কোনো সাক্ষাৎকার দেখলাম, সেটা পড়তে চেষ্টা করি। ওর অ্যাচিভমেন্টগুলো জানলে অন্য রকম ভালো লাগা কাজ করে। সিয়াম বন্ধুত্বটা খুব সুন্দরভাবে মেনটেইন করতে পারে। শুধু আমার সঙ্গেই নয়, ওর সঙ্গে অন্য যাদের বন্ধুত্ব আছে তাদের খেয়াল করি, ও সুন্দরভাবে মেনটেইন করতে পারে।’

সিয়াম বলেন, ‘জোভান তার ক্যারিয়ারে খুবই ভালো করছে। আমি মনে করি সে আরো অনেক কিছু দিতে পারবে ইন্ডাস্ট্রিকে। ওকে পর্দায় দেখলেই আমার ভালো লাগে। ওর কোনো প্রাপ্তি আমারও প্রাপ্তি।’

জোভানের মতে, সিয়ামের মধ্যে ইতিবাচক দিক বেশি। ও সব ধরনের মানুষের সঙ্গে মিশতে পারে। নিজেকে সুন্দর করে উপস্থাপন করতে পারে। ‘এ গুণটা হয়তো আমার মধ্যে নেই’, আফসোস জোভানের। সিয়াম যোগ করেন, ‘জোভান যা চিন্তা করে তার সবটা প্রকাশ করে না, নিজের মধ্যে রাখতে পারে, এটা ভালো একটা দিক। ও অনেক পরিশ্রমী অভিনেতা, যা কিছু পেয়েছে পরিশ্রম করেই পেয়েছে।’ জোভানের জন্য কিছু পরামর্শও দিলেন সিয়াম, ‘আমার মনে হয় মানুষ কী ভাবছে, কী করল—এসব নিয়ে বেশি প্রভাবিত হয় ও। থার্ড পারসনের কথা বেশি শোনে। এগুলো অ্যাভয়েড করলে ওর জন্য ভালো।’

ছয় বছর পর শিহাব শাহীনের যে ওয়েব সিরিজে দুই বন্ধু একসঙ্গে কাজে নেমেছেন, সেই ‘মরীচিকা’ নিয়ে অবশ্য কিছুই বললেন না তাঁরা। শুধু বললেন, ‘অনেক চমক আছে।’ আরো পাঁচ দিন একসঙ্গে শুটিং আছে তাঁদের।

About Jisan Ali

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*