সংবাদ শিরোনামঃ

অর্ধ কোটি টাকা আত্মসাতের চেষ্টা টেন্ডারবিহীন থার্মাল স্ক্যানারে!

বাংলাদেশ রেলওয়ের (পূর্ব) এর অধীনস্ত চট্টগ্রাম রেল স্টেশনে কোন রকম টেন্ডার ছাড়াই ২ টি থার্মাল স্ক্যানার বসিয়েছে মোঃ কাইয়ুম নামের একজন ঠিকাদার। রেলওয়ের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক রুহুল কবির আজাদের যোগসাজসে এই স্ক্যানার মেশিনকে কেন্দ্র করে বাজার দরের বেশি দাম দেখিয়ে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে অফিসার- ঠিকাদার ওই চক্রটি। খরচের টাকা বাদ দিয়ে অবশিষ্ট টাকা এই চক্রের মাঝে ভাগ বাটোয়ারা  করা হবে বলে বিশ্বস্ত সুত্রে জানা গেছে।
জানা যায় গত ১০/১২ দিন পুর্বে চট্টগ্রাম নতুন রেলওয়ে স্টেশনে প্রবেশ এবং বাহির পথে ২ টি থার্মাল স্ক্যানার বসানো হয় যার জন্য নিয়ম অনুযায়ী টেন্ডার আহবান করে সর্ব নিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার কথা কিন্তু রহস্যজনক কারনে কোনরকম টেন্ডার বা কার্যাদেশ ছাড়াই মোঃ কাইয়ুম নামের একজন ঠিকাদারের মাধ্যমে নিয়ম ভঙ্গ করে ওই থার্মাল স্ক্যানারগুলো বসানো হয়েছে। এই কাজের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন এই কাজের জন্য সব মিলিয়ে সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা খরচ হতে পারে। কিন্তু অদৃশ্য কারনে ওই ৩ লাখ টাকার কাজের জন্য ৫০ লাক টাকা বিল পাশ করার চেষ্টা করছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক রুহুল কাদের আজাদ। ৫০ লাখ টাকার এই বিল পাশ হলে এই কাজের জন্য রেলওয়ের ক্ষতি হবে ৪৭ লাখ টাকা । এই অতিরিক্ত ৪৭ লাখ টাকার অর্ধেক নিবেন প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক ও বাকী অর্ধেক নিবেন ঠিকাদার মোঃ কাইয়ুম  আর এই অনিয়মের ফলে খোদ রেলওয়ের কর্মকর্তাদের মাঝেই শুরু হয়েছে নানা জল্পনা কল্পনা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কর্মকর্তা বলেন রেলওয়ে একটি সেবামুলক প্রতিষ্ঠান আর এই সেবা নিশ্চিত করতে এমনিতেই হাজার হাজার কোটি টাকা ভুর্তুকি দিচ্ছে সরকার আর এই অবস্থায় যদি এভাবে অনিয়ম করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাত করা হয় তাহলে এক সময়ে অস্তিত্ব সংকটে পড়বে বাংলাদেশ রেলওয়ের সেবা কার্যক্রম।
টেন্ডার ছাড়া ২টি থার্মাল স্ক্যানার বসানোর বিষয়টি স্বীকার করে মোঃ কাইয়ুম বলেন জনস্বার্থের কথা চিন্তা করে টেন্ডার ও কার্যাদেশ ছাড়াই থার্মাল স্ক্যানার দুটি বসানো হয়েছে তবে টেন্ডারের বিষয়গুলো প্রক্রিয়াধিন আছে। তবে এই কাজগুলো করার জন্য সর্বসাকুল্যে  ১২ (বার) লাখ টাকা খরচ হয়েছে বলে দাবী করেন তিনি। টেন্ডার  প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও অতিরিক্ত টাকা বিল পাশের চেষ্টার বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক রুহুল কাদের আজাদ বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চেষ্টা করে বলতে পারেননা বলে পার পেতে চেষ্টা করেন। আপনিই নাকি এসমস্ত অপকর্মের মূলহোতা এমন প্রশ্নের জবাবের কোন সদুত্তর না দিয়ে অফিসে গিয়ে কথা বলতে বলেন প্রতিবেদক মোবাইলে কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ করিলে নেট প্রবলেম দেখিয়ে কেটে দেন। কিছুক্ষন পরে অতিরিক্ত প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক আনোয়ারুল ইসলাম  এই প্রতিবেদকে ফোন করে রুহুল কবির আজাদের রেফারেন্স দিয়ে টেন্ডার আহবান না হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন আমরা কাউকে টেন্ডার আহবান করিনি কার্যাদেশতো দুরের কথা কাউকে কাজ করার কথাও বলেননি। বর্তমানে রেলওয়ে স্টেশন একটি সংরক্ষিত এলাকা যেখানে সাংবাদিক প্রবেশ করতে অনেক জবাবদিহিতা করতে হয় সেখানে তারা কিভাবে কাজ করলো, টেন্ডার আহবান করলে এই কাজ যে ওরাই পাবে এমন নিশ্চয়তা, আর ৩ লাখ টাকার কাজের বিপরীতে ৫০ লাখ টাকার বাজেট করা,আর এই বিল কিভাবে পরিশোধ করবেন জানতে চাইলে তিনিও অফিসে গিয়ে কথা বলার জন্য বলেন প্রতিবেদক মোবাইলে কথা বলার আগ্রহ দেখালে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন আপনি না আসলে আমি আপনার অফিসে গিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য উপাত্ত বুঝিয়ে দিব বললেও পরে আসেননি।

About Jisan Ali

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*