সংবাদ শিরোনামঃ

পটিয়ার মরণফাঁদে ৭ মাসেই ঝরলো ১০ প্রাণ


লাভলী আক্তার , পটিয়া :

চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া বাইপাস সড়কটি মরণফাঁদে পরিনত হয়েছে। প্রতিদিন কোন না কোন ছোট বড় দুর্ঘটনায় ঝড়ে পড়ছে মানুষের প্রাণ, পঙ্গু হচ্ছে অনেকে। সড়কটি উদ্বোধনের পর থেকে বিগত সাত মাসে কমপক্ষে আটজন নিহত ও অসংখ্য মানুষ আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। জানা যায় , পটিয়া পৌরসভার শহর এলাকার যানজট নিরসন ও পর্যটন নগরী কক্সবাজার ও বান্দরবানের দূরপাল্লার যানবাহনগুলোর বাধাহীন চলাচল নিশ্চিত করার জন্য চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহা সড়কের ইন্দ্রপুল এলাকা থেকে চক্রশালা পর্যন্ত ৫ দশমিক ২০ কিলোমিটার এ বাইপাস সড়কটি নির্মাণ করে সড়ক ও জনপদ বিভাগ। এতে মোট ব্যয় হয় ৮৭ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা। গত বছরের ৩০ জুন সড়কটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়। দূরপাল্লার যাত্রীদে দুর্ভোগ লাঘবে ঈদুল আজহা উপলক্ষে গতবছরের ১০ আগস্ট সড়কটি চালু করা হয়। জাতীয় সংসদের হুইপ সামশুল হক চৌধুরী সড়কটি যানবাহন চলাচলের জন্য এসময় সাময়িকভাবে সড়কটি খুলে দেন। পরে গত ১৬ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সড়কটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। পটিয়া বাইপাস সড়কটি চালু হওয়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার যোগাযোগের ক্ষেত্রে নবদিগন্ত সূচিত হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রী সেইসময় উল্লেখ করেছিলেন। বাস্তবেও তাই হয়েছে। সড়কটি চালু হওয়ায় দূরপাল্লার যানবাহনগুলোকে পটিয়া সদরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আর যানজটে পড়তে হচ্ছে না। সময় ও দূরত্ব দুই-ই কমে এসেছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে সড়কটি চালু হওয়ার পর থেকে এ সড়কে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে। বিশেষ করে গ্রামীণ নয়টি সড়ক নতুন বাইপাস সড়কের সঙ্গে যুক্ত থাকায় প্রতিদিন শত শত স্কুল কলেজের ছাত্- ছাত্রী চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষ সড়কের উপর দিয়ে যাতায়াতকালে দুর্ঘটনার সম্মুখীন হচ্ছেন। সরেজমিন দেখা যায় রাস্তা পারাপার এবং সড়ক বিভাজকের মোড়ে গাড়ি ঘোরানোর সময় অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটছে। দুর্ঘটনা রোধ ও সড়কটি নিরাপদ করতে এলাকাবাসী ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি দিয়েছে । স্মারকলিপিতে বলা হয়, বাইপাস সড়কটি সরলীকরণ না করায় ১০ থেকে ১২টি বাঁক সৃষ্টি হয়। এতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। সড়কটি চালু হওয়ার পর থেকে ১০ জন পথচারী ও যাত্রী নিহত এবং আহত হয়েছে প্রায় অর্ধশতাধিক সাধারণ মানুষ। সরেজমিনে আরো দেখা যায়, পটিয়া বাইপাস সড়কের সঙ্গে নয়টি সংযুক্ত সড়ক রয়েছে। সংযুক্ত আঞ্চলিক ও গ্রামীণ সড়ক দিয়ে সিএনজি চালিত অটোরিকশাসহ নানা ধারনের ছোট যানবাহন চলাচল করে। সড়ক লাগোয়া বসতবাড়ি ও একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ আনোয়ারা রাস্তার মাথা, বৈলতলী সড়ক, ভাটিখাইন সড়ক ও কচুয়াই শ্রীমাই সেতু, দক্ষিণ ঘাটা, সড়ক এলাকা। বাইপাস সড়কের পাশ দিয়ে হাঁটার সময় দেখা গেছে, দ্রুত গতিতে যানবাহন চলাচলের কারণে সংযুক্ত সড়কের গ্রামের ছোট গাড়িগুলো কিংবা পথচারীরা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। এছাড়া রাতে এ সড়কে কোনো বাতি না থাকায় অনেক ছোট গাড়ি ডিভাইডারের সঙ্গে ধাক্কা লাগছে। ঘটছে দুর্ঘটনা। স্থানীয় বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেন, সড়কটি নির্মাণের সময় গ্রামের সংযুক্ত সড়ক লাগোয়া জায়গায় আন্ডারপাস কিংবা ওভার ব্রিজ নির্মাণের বিষয়টি না থাকায় একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটছে। সড়কে আটটির মত চৌমুহনি আছে, যেখানে বাইপাস সড়কের বিভাজকের মোড়ে গাড়ি ঘোরানোর সময় দ্রুতগতিতে আসা বড় গাড়ির সঙ্গে ছোট গাড়ির ধাক্কা লাগার কারণে প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটছে । তিনি আরো বলেন, পটিয়া বাইপাস সড়কটিতে গাড়ি চলাচলের গতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকে না। ফলে চালক তার গাড়ির নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে ব্যর্থ হয় অনেক সময়। তিনি এ সড়কে যানবাহন চলাচলের গতিসীমা নির্ধারণ ও আপাতত স্পিড ব্রেকার দেওয়ার জন্য সওজ বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ভাটিখাইন ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ বখতিয়ার বলেন, পটিয়া বাইপাস সড়কটি আমার ইউনিয়নের উপর দিয়ে যাওয়ায় আমার ইউনিয়নের লোকজন সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এটি পরিকল্পিতভাবে যদি সংস্কার করে দুর্ঘটনামুক্ত করা না হয় তাহলে মৃত্যুর মিছিল বাড়তেই থাকবে

About Jisan Ali

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*