সংবাদ শিরোনামঃ

জীবন যুদ্ধে হার না মানা এক যোদ্ধা ডাঃ আলমগীর


বর্তমান সময়ের এক অনন্য ব্যক্তিত্ব ও লোভ লালসা মুক্ত চিকিৎসক। যিনি গত বিশ বছর অসহায় গরীব রোগীদেরকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করে আসছেন। বর্তমান সময়ে যেখানে চিকিৎসা সেবার সাথে পরীক্ষা নিরীক্ষার (%) এর রমরমা বানিজ্য চলছে, সেখানে তিনি কোন (%) না নিয়ে লোভ লালসার উর্ধ্বে থেকে চিকিৎসা সেবা চালিয়ে যাচ্ছেন। এজন্য অনেকের চক্ষুশূল হয়ে অনেক খেসারতও দিতে হচ্ছে তাকে। কোন রকম সরকারি সুবিধা গ্রহণ না করা মহান এক মুক্তিযোদ্ধার একমাত্র ছেলে তিনি। শিশুকাল থেকে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, দুর্ভিক্ষ, সাইক্লোন ও প্লাবনের সাথে সংগ্রাম করে বেড়ে উঠেছেন। ১৯৮৪ সালে ‘বাংলাদেশ আর্মি মেডিকেল কোরে’ মেডিঃ এসিঃ হিসেবে চাকুরী নিয়ে ১৯৯৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর স্বাভাবিক অবসর গ্রহণ করে এসে গঠন করেন “অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক কল্যাণ সংস্থা”এবং প্রতিষ্ঠা থেকে অদ্য পর্যন্ত যার মহাসচিব তিনি। সেই সাথে সংস্থার ব্যানারে শুরু করেন অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য ও তাদের পরিবারবর্গ এবং গরিব অসহায় মানুষের ‘ফ্রি’ চিকিৎসা সেবা। বর্তমানে তিনি ‘বাংলাদেশ আর্মড সার্ভিসেস বোর্ড’ এর একটি চিকিৎসা কেন্দ্র পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত অবস্থায় ঢাকা ইউনিভার্সিটি থেকে ১৯৮৮‌ সালে গ্রাজুয়েশন করা মানুষটি ২০০৫ সাল থেকে আবার পড়াশোনা শুরু করে প্রথমে ডিএইচএমএস কম্পিলিট করে ইন্টার্নশিপ শেষে চিকিৎসক নিবন্ধন গ্রহণ করেন। এরপর ডিইউএমএস কম্পিলিট করে ইন্টার্নশিপ শেষে আরো একটি চিকিৎসক নিবন্ধন গ্রহণ করে উক্ত মেডিকেল কলেজে লেকচারার হিসেবে যোগদান করেন। সর্বশেষ ২০১৭ সালে বিইউএমএস কম্পিলিট করে, বার্ডেম হাসপাতালে ইন্টার্নশিপ শেষে ৫৭ বছর বয়সে তিনি পুনরায় গ্রাজুয়েট চিকিৎসক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। অপরদিকে তার একমাত্র ছেলে বিএসসি(EEE) ইঞ্জিনিয়ার, বড় মেয়ে এবং জামাই সরকারি মেডিকেল কলেজ থেকে উত্তির্ণ ডাক্তার। আর ছোট মেয়ে ইন্টার পাশ করে এখন ভর্তির অপেক্ষায়। এরই মধ্যে তার বিরুদ্ধে শুরু হয় বেসরকারি ডেন্টাল কলেজ থেকে পাস করা এক ডেন্টিস্ট এবং তার উকিল বাবার প্রতিহিংসার রোষানল। বাপ-ছেলে মিলে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করেন ১৩টি মিথ্যা মামলা। ঐ উকিল এক প্রভাবশালী নেতার পদলেহন করে পরিস্থিতি এমন করে তোলেন যে, ডাক্তার সাহেব তার পক্ষে দাঁড়ানোর মতো কোনো উকিল পর্যন্ত নিয়োগ করতে পারেন নাই, কিন্তু তিনি ‘বাংলার বীর সৈনিক’। ডর ভয়ের স্থান তাঁর অন্তরে নেই। প্রতি পক্ষের ২৮ জন উকিলের সাথে মোকাবেলা করতে, উকিল না হয়েও তিনি নিজেই কোর্টে হিয়ারিং করতে দাঁড়িয়ে যান। চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অনুমতি নিয়ে একটানা ৩৫ মিনিটে তিনি তার আর্জি পেশ করেন। তাঁর উপস্থাপনায় সন্তুষ্ট হয়ে এবং তাঁর বলা প্রতিটা কথার সত্যতা উপলব্ধি করে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিজেই উকিলকে জেরা করেন। এতে তাঁর বিরুদ্ধে করা মামলা গুলো মিথ্যা প্রমাণিত হয়। ঐ মামলা গুলোর মধ্যে বিএমডিসি এ্যাক্টেও একটা বানোয়াট মিথ্যা মামলা ছিল। তাই হয়রানি থেকে বাঁচতে তিনি ২০১৮ সালে বিএমডিসি এ্যাক্টের ২৭ ও ২৯ ধারা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন। হাইকোর্ট তখন ঔষধ প্রশাসন, বিএমডিসি, পুলিশ, RAB, ডিজি হেলথ, আইন মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সহ সকলের প্রতি রুলনিশি জারি করেন এবং তাকে হয়রানি না করতে নির্দেশ দেন। যা এখনো চলমান রয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্য তার পিছু ছাড়েনি। সুখপাখীটা যখন তাঁর ঘরের দরজায় কড়া নাড়তে শুরু করলো, ঠিক তখনই একদিন আচমকা তার সহধর্মিণী কোনো রকম অসুখ বিসুখ ছাড়াই বিধাতার ডাকে সাড়া দিয়ে পরপাড়ে চলে গেলেন। অপরদিকে এখন আবার কতিপয় ব্যাক্তি তাঁর সম্পর্কে না জেনে না বুঝে তাঁর বিরুদ্ধে অহেতুক অপপ্রচার চালাচ্ছেন। এতে তাঁর নিজের এবং ছেলে মেয়েদের ব্যক্তিত্ব, ইমেজ এবং মান সম্মানের যথেষ্ট ক্ষতি হচ্ছে কিন্তু তিনি সকল বৈধতার মাপকাঠিতে উত্তির্ণ হওয়া সত্ত্বেও কোন প্রতিবাদ করতেও রাজি নয়। তাই স্বচেতন ব্যক্তি হিসেবে এটা কোনো ভাবেই মেনে নিতে না পেরে আজকের এই লেখা।ভাগ্যের নির্মম পরিহাসের এখানেই পরিসমাপ্তি নয়। বিগত ৩০ ডিসেম্বর’১৯ সোমবার দিবাগত রাত ১১.০০টায় ভোলস্থ তার নিজ বাসভবনে ঘুমন্ত অবস্থায় তার মারাত্মক হার্ট অ্যাটাক হয়। আল্লাহর অসীম রহমতে এবং প্রিয় ভাই-বন্ধুদের প্রচেষ্টায় আল্লাহ তাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। ঐ সময়ই সাথে সাথে বন্ধুরা তাকে ভোলা সদর হাসপাতালে নিয়ে জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন এবং সেখান থেকে পরদিন আড়াইটার গ্রীন লাইনে তাকে ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার হয়। সেখানে বহু পরীক্ষা নিরীক্ষা পর এ্যান্জিওগ্রাম শেষে তার হার্টের করোনারি আর্টারিতে বড়ধরনের তিনটা ব্লক ধরা পড়ে। তাই আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তার শারীরিক অবস্থার একটু উন্নতি হলেই হার্টের বাইপাস অপারেশন করা হবে বলে তার ছেলে মেয়েরা জানিয়েছেন। পাশাপাশি তার সুস্থতার জন্য সকলের নিকট দোয়া কামনা করেছেন। আমরা তার সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।

About Jisan Ali

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*