সংবাদ শিরোনামঃ

বাংলাদেশসহ বিশ্বের চোখ নেদারল্যান্ডসের হেগে গণহত্যার দোসর সু চি আজ কাঠগড়ায়


মাহবুব আলম মিনার কক্সবাজার প্রতিনিধি

অং সান সু চি! হাজার হাজার রোহিঙ্গা শিশু, নারী ও বৃদ্ধাকে জীবন্ত কুপিয়ে-পুড়িয়ে গণহত্যার নির্দেশদাতা। বর্বরতম এমন অপরাধের অভিযোগে আজ আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হচ্ছে তাকে। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে দায়ের করা ওই গণহত্যা মামলায় আজ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত শুনানি চলবে। জাতিসংঘের আদালত বিশ্ব কল্যাণের জন্য আজ কী সিদ্ধান্ত নেবে, এটি জানতে এখন বাংলাদেশসহ বিশ্বের চোখ নেদারল্যান্ডসের হেগে। তবে বিশেষভাবে বাংলাদেশের চোখ থাকবে অন্যভাবে। কেননা, সু চির নির্দেশে মিয়ানমারে গণহত্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাংলাদেশ। প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা এখন বাংলাদেশের সীমানায়। রোহিঙ্গাদের বিচরণে স্থানীয় বাঙালিরা এখন প্রায় সংখ্যালঘু। অনিশ্চয়তা পুরো কক্সবাজারের জীবনযাপন। ভূখণ্ড-পাহাড়সহ দেশের বিরাট অংশ ক্ষতির সম্মুখীন। বারবার উদ্যোগ নিলেও এখন পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের মৌলিকভাবে অং সান সু চির সীমানায় পাঠানো যাচ্ছে না। জানা গেছে, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের বিচার চেয়ে তিনটি মামলা হয়েছে। একটি হয়েছে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস বা আইসিজে), দ্বিতীয়টি হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্ট-আইসিসি) এবং তৃতীয়টি হয়েছে আর্জেন্টিনার আদালতে। আইসিসির মামলাটির বিচার প্রক্রিয়াও এগিয়ে রয়েছে। সব মিলিয়ে মিয়ানমার এখন বিশ্বের চাপের মুখে রয়েছে। রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানোর অভিযোগে আইসিজেতে মামলা করে আফ্রিকার মুসলিমপ্রধান ক্ষুদ্র দেশ গাম্বিয়া। এতে কূটনৈতিক ও আর্থিক সমর্থন দিচ্ছে ওআইসি। মামলায় সমর্থন দিয়েছে আরও বহু আন্তর্জাতিক সংস্থা। ১৯৪৮ সালের গণহত্যা কনভেনশনের অধীনে গত নভেম্বরে মামলাটি করা হয়। মিয়ানমার ও গাম্বিয়া উভয়েই এই কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী। ফলে মিয়ানমার এ মামলায় সাড়া দিতে বাধ্য হয়েছে। বাংলাদেশসহ মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগে মিয়ানমারের এই বর্বরতাকে আইসিজেতে তোলা হয়েছে গত মাসে। নিরস্ত্র জনগণের ওপর গণহত্যা চালানোর অপরাধে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাইছেন বিশ্বের শান্তিকামী ও মানবতাবাদী সব মানুষ। যদিও এই মামলার প্রেক্ষিতে নিজের দেশের অবস্থান তুলে ধরতে নেদারল্যান্ডসে ইতোমধ্যে পৌঁছে গেছেন সু চি। শুনানিতে রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের পক্ষ সমর্থন করবেন তিনি। যদিও একসময় মানবাধিকারের পক্ষে লড়াইয়ের জন্য তাকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেয়া হয়েছিল। এখন তিনি নিজ দেশে গণহত্যার দোসর। এখন ফের আন্তর্জাতিক আদালতে রোহিঙ্গাদের গণহত্যার পক্ষে সাফাই গাইবেন। সু চির এ সিদ্ধান্তে তার অনেক আন্তর্জাতিক শুভাকাঙ্ক্ষীও হতাশ ও বিস্মিত হয়েছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন রাজনৈতিক ফায়দা লুটতেই জাতিসংঘের আদালতে লড়তে যাচ্ছেন সু চি। দেশের ভেতর অবস্থান আরও সুসংহত করাই তার মূল উদ্দেশ্য। আগামী বছর মিয়ানমারে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে দেশটির সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সমর্থন ধরে রাখতে গণহত্যার পক্ষে দাঁড়াচ্ছেন তিনি। এদিকে অং সান সু চি যখন নিজ দেশের সেনাবাহিনীর রোহিঙ্গা গণহত্যার পক্ষে সাফাই গাইতে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালতে গেছেন; ঠিক তখন ‘মিয়ানমার বয়কট’-এর ডাক দিয়েছে ১০টি দেশের ৩০টি সংগঠন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, সু চি যখন হেগে অবস্থান করছেন, তখন জার্মানভিত্তিক ফ্রি রোহিঙ্গা কোয়ালিশন্স নামের প্ল্যাটফর্ম থেকে ‘বয়কট মিয়ানমার ক্যাম্পেইন’ শুরু করা হয়েছে। সংগঠনটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গণহত্যা মামলার শুনানিকে সামনে রেখে ৩০টি মানবাধিকার, শিক্ষাবিদ এবং পেশাদারদের সংগঠন মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ফরসি ডট কো, রেস্টলেস বিংস, ডেস্টিনেশন জাস্টিস, রোহিঙ্গা হিউম্যান রাইটস নেটওয়ার্ক অব কানাডা, রোহিঙ্গা হিউম্যান রাইটস ইনিশিয়েটিভ অব ইন্ডিয়া ও এশিয়া সেন্টারের মতো সংগঠনগুলো। কর্মসূচি নিয়ে বয়কট রোহিঙ্গা ডট অর্গ তাদের ওয়েবসাইটে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, ‘২০১৯ সালের ৯ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবসে এসব সংগঠন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মিয়ানমারকে বর্জনের আহ্বান সম্বলিত প্রচারণা শুরু করেছে।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে সেনাবাহিনী ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো নৃশংসতা, গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে। এর পক্ষে প্রত্যক্ষ ও নথিভুক্ত প্রমাণ রয়েছে। সারা বিশ্ব এর নিন্দা জানালেও হতাশার কথা, এ অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করছেন শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি। ফ্রি রোহিঙ্গা কোয়ালিশনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা নাই সান লুইন বয়কট কর্মসূচি প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন স্পষ্ট করেছে যে, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জাতিকে নির্মূল করে দেয়ার একটি নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। রোহিঙ্গা অধিকারকর্মী হিসেবে আমরা মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অধীনে ১৫ বছর গৃহবন্দি থাকা অং সান সু চির মুক্তির আন্দোলন করে এসেছি। তবে তিনি সেই অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়ার পর শুধু খুনি সেনাবাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে চলছেন। তাই আমরা মিয়ানমারের সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক ও আনুষ্ঠানিক সব সম্পর্ক ছিন্ন করতে সবার প্রতি আহ্বান জানাই।’ এছাড়া সংশ্লিষ্ট বিষয়টি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, মিয়ানমারের বিষয়টি যেহেতু আন্তর্জাতিক আদালতে গেছে, তাই জাতিগত নিধনের ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের বিচারই যথেষ্ট নয়। জাতিগত নিধনের প্রস্তুতির বিষয়ে জানার পরও যারা ব্যবস্থা নেয়নি, তাদেরও জবাবদিহি করতে হবে। জাতিসংঘকেও জবাবদিহি করতে হবে। কারণ, তারা এই নিধনয

About Jisan Ali

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*