সংবাদ শিরোনামঃ

নওগাঁর মান্দায় বড় বোনের বাড়িতে গিয়ে ছোট বোনের মৃত্যু!

মাহবুবুজ্জামান সেতু,নওগাঁ প্রতিনিধি:

নওগাঁর মান্দায় বড় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে অালুর ভর্তা দিয়ে ভাত এবং সন্দেশ খেয়ে সুখী (১০) নামের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার নুরুল্যাবাদ ইউপির জোতবাজারস্থ এলাকায় মৃত সুখীর বড় বোনের বাড়িতে। মৃত সুখী (১০)নূরুল্যাবাদ ইউপির জোতবাজার শাহপাড়া গ্রামের অাব্দুস সালামের মেয়ে। নিহতের স্বজনরা জানায়, ও কয়েক দিন অাগে ওর বড় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গেছিলো। বোনের বাড়ি ওদের বাড়ির কাছাকাছি হওয়ায় মাঝে মধ্যেই ও ওর বড় বোনের বাড়িতে যেতো।অার বেড়াতে গেলে দু ‘চার দিনের অাগে বাড়িতে অাসতো না। বোনের বাড়িতে বেড়াতে গেলে তো, কম বেশি ভালো মন্দ খাবারের অায়োজন থাকে এটিই স্বাভাবিক। কিন্তু অাজ মঙ্গলবার সকালের খাবারের মান কিছুটা খারাপ ছিলো। নিহতের বোন জানায়, ও অাজ সকালে অামার বাড়িতে অালুর ভর্তা দিয়ে ভাত খাওয়ার পর একটি সন্দেশ খাইছিলো। ওর সাথে অামরাও সবাই একসাথে সন্দেশ খাইছিলাম। কিন্তু ও খাবার কিছুক্ষণ পর থেকে পেট ব্যাথা, পেট ব্যাথা বলে চিৎকার করতে থাকে। ওর চিৎকার করা দেখে অামরা ওকে সকালেই মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করিয়ে দিই। ভর্তি করানোর পর তেমন কোন চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছিলো না অামার বোনকে। অামরা বারবার ডাক্তার এবং নার্সদেরকে ডেকেছি। অথচ, তারা সময়মত অামাদের ডাকে সাড়া দেয় নি। অামার বোন যখন অতিরিক্ত ব্যাথা অার যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছিলেন, ঠিক তখনও অামরা বিভিন্নভাবে জরুরি বিভাগে দায়িত্ব প্রাপ্তদের জানানোর চেষ্টা করে ব্যার্থ হয়েছি। সেসময় তাদের কোন রেসপন্স লক্ষ্য করা যায় নি। তাদের কাজ তো শুধু রেফার্ড করা। তাদের উদাসীনতার যেনো প্রতিবাদ করার কেউ নেই। অামার বোনের মুখ দিয়ে ফ্যাপরা (ফ্যানা) উঠে মারা যাবার পর মহিলা ওয়ার্ডে দায় এড়াতে অাসছিলো দায়িত্বপ্রাপ্ত ডাক্তার এবং নার্সেরা। এটা সত্যিই অমানবিক। মেডিকেলে রোগীর স্বজনদের মধ্যে কেউ কেউ বলছিলেন যে, জীবিতাবস্থায় কোন এক সময় না কি, সুখীকে কুকুরে কামড়ে দিছিলো। তাদের ধারনা যে হয়তাবা মেয়েটি জলাতঙ্ক রোগে ভুগতেছিলো এবং অাজকের খাবারে কোন বিষক্রিয়া ছিলো। অার না হলে মেয়েটি কাউকে না জানিয়েই একাকি গ্যাসবড়ি খেয়েছে। অথবা অন্য কেউ তাকে খাবারের সাথে ওকে কেউ বিষ মিশিয়ে খাইয়ে দিছে। এসব ব্যাপারে নিহতের বাবা কোন কথা বলতে রাজি হননি। এতে অারো বেশি সন্দেহের সৃষ্টি হয়। তবে অার যাই হোক,মৃত্যটি রহস্যজনক বলে মনে হয়েছে। অাল্লাহ মেয়েটিকে জান্নাত নসিব করুন।অামিন। কিন্তু এ অনাকাঙ্ক্ষিত হৃদয় বিদারক মর্মান্তিক মৃত্যু কিছুতেই মেনে নেয়ার মতো না। কিন্তু বিধাতার লিখন,না যায় খন্ডন। কি অার করার, কপালে যা ছিলো, তা তো, হবেই। মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মূহুর্তের মধ্যেই স্বজনদের অাহাজারিতে অাকাশ বাতাস ভারী হয়ে ওঠতে থাকে। শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে এসে ভর্তি করিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত ডাক্তার অাজ দুপুরে তাকে মৃত ঘোষনা করেন। এ ঘটনায় ওই শিশুর পরিবারে শোকের ছায়া নেমেছে। পরবর্তীতে শিশুটির মরদেহ মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তার বাবা মা নিজ বাড়িতে নিয়ে যান।পরবর্তীতে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

About Jisan Ali

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*