সংবাদ শিরোনামঃ

নাটোরে পুলিশের এসআইয়ের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

মো: রাজিবুল ইসলাম বাবু, নাটোর প্রতিনিধি: নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার গয়লার ঘোপ এলাকার বাসিন্দা, রাজশাহী গোয়েন্দা পুলিশের এসআই শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে নাটোর ইউনাইটেড প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। লিখিত বক্তেব্যে গয়লার ঘোপ কেন্দ্রীয় মসজিদের মোয়াজ্জিন নওশাদ আলী দাবী করেন, গয়লার ঘোপ এলাকায় দুটি মসজিদ কিন্তু একটি ঈদগাহ মাঠ। একটি মসজিদ গয়লার ঘোপ কেন্দ্রীয় মসজিদ আরেকটি এসআই শফিকুল ইসলামদের পরিবারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত ওয়াক্তিয়া মসজিদ। উভয় মসজিদের মুসল্লিরা ঈদের নামায একই ঈদগাহ মাঠে আদায় করেন।

২০১৮ সালের ১৬ জুন ঈদুল ফিতরের নামাযের সময় আগে দিন ১৫ জুন এশার নামায শেষে এসআই শফিকুল ইসলামদের মসজিদে ঘোষণা করা হয় সকাল সাড়ে আটটা। এদিকে কেন্দ্রীয় মসজিদের মুসল্লিদের মধ্যে বিবাদমান কফিল উদ্দিনের ছেলে কাওছার আহমদদের দাবী ছিল সোয়া আটটায়। কিন্তু কেন্দ্রীয় মসজিদ কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক তিনি (মোয়াজ্জিন নওশাদ) মাইকে ঈদের জামাত সাড়ে আটটায় ঘোষণা করেন। ঘোষণা শোনার পর পরই কফিল উদ্দিনের অনুসারীরা তাকে গালমন্দ সহ অপমান অপদস্ত করতে থাকে।

এক পর্যায়ে তার ওপর চড়াও হয় কফিল উদ্দিনের অনুসারীরা। বিষয়টি জানাজানি হলে শফিকুল ইসলামদের ওয়াক্তিয়া মসজিদের মুসল্লিসহ এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। শুরু হয় উভয়পক্ষে সংঘর্ষ। সংঘর্ষ শুরুর বেশ কিছু সময় পরে ঘটনাস্থলে পৌছে এসআই শফিকুল সংঘর্ষ থামানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু এঘটনায় বাগাতিপাড়া থানায় কাওছার বাদী হয়ে এসআই শফিকুলকে প্রধান ও তাকে দ্বিতীয় আসামী করে মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে মামলার আইও স্বপন কুমার চৌধুরী ঘটনার সাথে জড়িত না থাকার কথা উল্লেখ করে চার্জশীট থেকে এসআই শফিকুল ইসলাম সহ চার জনের নাম বাদ দেন।

এনিয়ে আদালতে নারাজি দিয়ে কাউছার অনুসারীরা সম্প্রতি নাটোর ইউনাইটেড প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করেছেন। তিনি এই মিথ্যাচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দাবী করেন, পুলিশ সঠিক তদন্তের মাধ্যমেই শফিকুল সহ ঘটনার সাথে জড়িত নন এমন চারজনের নাম বাদ দিয়েছেন। এসময় অন্যন্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ওয়াক্তিয়া মসজিদের ঈমাম আব্দুর রাজ্জাক, আসাদ আলী,সুলতান ও রবিউল ইসলাম। বিষয়টি সম্পর্কে যোগাযোগ করা হলে মামলার আইও স্বপন কুমার চৌধুরী ও নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল হাসনাত জানান, সঠিক তদন্ত করেই আদালতে চার্জশীট দেয়া হয়েছে। এ্রপরও আদালত শুনানীর মাধ্যমে, স্বাক্ষ্য প্রমাণ সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এনিয়ে বিবাদমান পক্ষকে কোন প্রকার উত্তেজিত না হতে তারা আহ্বান জানান।

About Jisan Ali

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*