সংবাদ শিরোনামঃ

পটিয়া ভূমি অফিসের গোপন তথ্য পাচার ও ফাইল চুরির সিন্ডিকেট

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসের গুরুত্বপুর্ণ ফাইল পত্র গোপন তথ্য টাকার বিরোধীদের বিনিময়ে পাচার, অফিসের গুরুত্বপুর্ণ ফাইল চুরি করে টাকার বিনিময়ে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। এছাড়া সরকারি ভুমি অফিসের জায়গা-জমির গুরুত্বপুর্ণ আদেশ ও কাগজ পত্র গায়েবসহ বিভিন্ন অনিয়ম দুর্ণীতির প্রশয় দিচ্ছে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ এই দুটি অফিসের কিছু দূণীতিবাজ কর্মকর্তা কর্মচারী এই কাজে সরাসরি জড়িত থাকার প্রমানও রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যলয় থেকে ফাইল চুরির ঘটনায় উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা তপন চৌধুরী গত ৯ মে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে উপজেলার চাপড়া এলাকার তাপস কুমার চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।

এছাড়া রয়েছে নজিরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম দুর্ণীতির অভিযোগ। নাজির শারুখ হোসেন, নাজির হিসেবে পটিয়া ভুমি অফিসে দায়িত্ব পাওয়ার পর কোটি কোটি টাকার অনিয়ম দূর্ণীতির অভিযোগ উঠেছে নাজির এবং কয়েক জনের বিরুদ্ধে দুর্ণীতি দমন কমিশনের অভিযোগ করেছেন পটিয়া সদরের মুক্তিযোদ্ধা গোলাম কিবরিয়া নামের এক ব্যক্তি।

ফাইল চুরির ঘটনায় পটিয়া উপজেলা ভূমি অফিসে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তাপস কুমার চৌধুরী নামের এক ব্যাক্তির উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে সরকারি লীজের জায়াগ জমির একটি ফাইল চুরির চাঞ্চল্যকর ঘটনায় বিচার প্রশাসনের চাঞ্চল্য সৃষ্ঠি হয়। সরকার ফাইল চুরির অভিযুক্ত ব্যক্তি তাপস কুমার চৌধুরীর সাথে উপজেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তা কর্মচারী এবং এসিল্যান্ড অফিসের নাজির শারুখ হোসেন ও কানুনগো আবদুস ছাত্তার, সার্ভেয়ার ওসমানের সাথে ভাল সখ্যতা রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। যার কারণে ফাইল চুরির ঘটনায় দীর্ঘদিন বিচার না হওয়ায় সিন্ডিকেটটি আরো শক্তিশালী হয়ে উঠছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

জানা যায় উপজেলার কোলাগাও ইউনিয়নের তাপস কুমার চৌধুরী সরকারী লীজের জায়গা তথ্য গোপন করে বিক্রি করে দেয়। এ ঘটনায় স্থানীয় তপন চৌধুরী সরকারী ফ্ইালটি উদ্ধার করে দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট অভিযোগ করেন। সম্প্রতি পটিয়া উপজেলা ভূমি অফিস থেকে কোলাগাও ইউনিয়নের চাপড়া মৌজা এলাকার পুরো ফাইল গায়েব হয়ে যায়। বিষয়টি স্থানীয় এমপি ও জাতীয় সংসদওে হুইপ শামশুল হক চৌধুরীর কাছেও জানিয়েছেন পটিয়া সদরের মাহবুবুর রহমান নামের এক ব্যক্তি।

আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১০ সালের ১৩ অক্টোবর লীজ বাতিল করেন। বাতিলের আদেশের কপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে রহস্যজনক ভাবে গায়েব হয়ে যায়। পরে ফাইলটি তাপস কুমার চৌধুরী কাছ থেকে পাওয়া যায়। উপজেলার চাপড়া এলাকার তাপস কুমার চৌধুরী গোপনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাযালয় থেকে ফাইল চুরি করার প্রমাণ পাওয়া যায়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ২০১২ সালের ৫ সেপ্টম্বর ৪৬৫ নং স্বারক, ভিপি মামলা নং ১৮৭/৭৭/৭৮ মূলে তৎকালিন পটিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি শাহজাহান আলী একটি নোটিশ প্রদান করেন। উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা স্বারক নং ৪৩৪(১) মুলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে নোটিশের প্রক্ষিতে খোকন চন্দ দাশের জিম্মায় ২৪ জুনের মধ্যে চোরাইকৃত ফাইল ফেরত দেয়ার কথা বলে একটি অঙ্গিকারনামা প্রদান করেন। পরে ফাইলটি ফেরত দিলেও আদেশের কপিগুলো ফেরত দেয়নি তাপস চৌধুরী।
এব্যাপারে অভিযোগকারী তপন চৌধুরী বলেন, আমি ফাইল চুরির বিষয় নিয়ে অভিযোগ করেছি কিন্তু এটার বিচার না করে চোরকে জায়গা দিয়ে দিতে প্রশাসনের একটি চক্র ব্যস্থ হয়ে পড়েছে। তৎকালিন পটিয়া উপজেলা সহকারী কমিশার (ভূমি) গৌতম বাড়ৈ ফাইল চুরির অভিযুক্ত ব্যক্তিটি দেখলে পুলিশে দেয়ার নির্দেশ দিলেও গৌতম বাড়ৈ বদলী হওয়ার পর চুরি সিন্ডিকেটটি ফের সক্রিয় হয়ে উঠে।

পটিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসের নাজির শারুখ হোসেন বলেন, ফাইল চুরির সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন।এই প্রসঙ্গে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাব্বির রহমান সানি বলেন, ফাইল চুরি, নথি গায়েব, আদশে পাল্টানোসহ বিভিন্ন অভিযোগ বিভিন্ন সময় কানে আসছে। ফাইল চুরির ঘটনায় ইউএনও স্যারের কাছে এক ব্যক্তি অভিযোগ দিয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

About Jisan Ali

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*