সংবাদ শিরোনামঃ

বেগম জিয়ার কিছু হলে এর দায়ভার সরকারের – ডাঃ শাহাদাত

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে বানোয়াট মামলায় অন্যায় ভাবে সাজা দিয়ে কারাবন্দি করে রাখা হয়েছে। প্রহসনের বিচারিক প্রক্রিয়ায় তাকে কারাগারে আটকিয়ে রেখে তাকে মানসিক ও শারীরিক যন্ত্রণা দেওয়া হচ্ছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ। তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকগণ ও বিএনপির পক্ষ থেকে বার বার বিশেষায়িত ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসার দাবি জানালেও সরকার তাকে জোর করে পিজি হাসপাতালে ভর্তি করেছে। সেখানে তাকে সুচিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না। তার শারীরিক পরিস্থিতি ভয়ংকর খারাপের দিকে যাচ্ছে।বেগম জিয়ার কিছু হলে এর দায়ভার সরকারকেই বহন করতে হবে এবং জনতার রুদ্ররোষের হাত থেকে অত্যাচারী শাসকগোষ্ঠী ও তার বশংবদরা রেহাই পাবে না।

বেগম খালেদা জিয়াকে বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যাপারে সরকার নির্বিকার। তিনি গত ২০ এপ্রিল শনিবার বিকেলে নগরীর লাভ লেইনস্থ সিএমইউজে মিলনায়তনে বেগম খালেদা জিয়া ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর মুক্তির দাবিতে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পরিষদের উদ্যোগে এক প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। গুরুতর অসুস্থ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে অবহেলা চলছে অভিযোগ করে ডা: শাহাদাত বলেন, বেগম জিয়ার জীবন নিয়ে সরকার মহাচক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে।ইউনাইটেড হাসপাতালের উন্নত মানের চিকিৎসার দাবি উপেক্ষা করে সরকার তাকে পিজিতে নিয়ে যাওয়া দুরভিসন্ধিমূলক। পিজি হাসপাতালে তার যথাযথ চিকিৎসা হচ্ছে না। তারপরও জবরদস্তীমূলকভাবে বেগম খালেদা জিয়াকে পিজিতে চিকিৎসার জন্য নেওয়া সরকারের সুপরিকল্পিত চক্রান্ত।

প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী। সেজন্যেই আওয়ামীলীগ বেগম জিয়াকে ভয় পায়। তাই তারা রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে বিএনপির নেতাকর্মীদের নির্মম নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। মধ্যরাতের নির্বাচনের সরকার বর্তমানে সম্পূর্ণ জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তাই তারা অমানবিক ও অগণতান্ত্রিক পথে হাটছে। তাদের ভোট জালিয়াতির ক্ষমতাকে ধরে রাখার জন্য গণতন্ত্রকে নিঃশেষ করে ফেলছে। সরকারি দলের লোকজন সারাদেশে নানা অপকর্মে জড়িয়ে দেশে এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। স্বৈরাচারি শাসনে অতিষ্ঠ জনগণ ভোটার বিহীন এই সরকারকে হঠাতে অচিরেই রাজপথে নেমে আসবে। জনগণ আন্দোলন শুরু করেছে এর শেষ হবেই।

প্রতিবাদ সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য সাথী উদয় কুসুম বড়ুয়া বলেছেন, আওয়ামীলীগ ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনকে কুক্ষীগত করে দেশে এখন একদলীয় শাসন কায়েম করেছে। জনগণকে ভয় দেখাতে তারা রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের আশ্রয় নিচ্ছে। ভয়াবহ দুঃশাসনে জনগণের ক্ষোভকে দমন পীড়নের মাধ্যমে প্রতিরোধ করতে উম্মাদ হয়ে গেছে বর্তমান ভোটার বিহীন সরকার।এসব নিপীড়ন করে সরকার জনগণের ক্ষোভ থেকে রেহাই পাবে না।

এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেছেন, বর্তমানে দেশে মানুষের কথা বলার অধিকার ও আইনের শাসন নেই। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সরকারের হস্তক্ষেপের কারণেই মুক্তি পাচ্ছে না। সরকারের পক্ষ থেকে বারবার জামিনে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। আইনের শাসন এবং বাস্তবায়ন যদি থাকত তিনি অনেক আগেই জামিনে মুক্তি পেতেন। বিএনপির কেন্দ্রয়ী ভাইস চেয়াম্যান ও রা্উজান – রাঙ্গুনীয়ার সাবেক সাংসদ গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী কে অত্যাচারী শাসক দীর্ঘ ৫ মাস কারাগারে আটকে রাখার পর জামিনে মুক্তি পেলে ও কারাগারে সু চিকিৎসা না পাওয়ায় তিনিও গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। আন্দোলনের মাধ্যমেই জনগন বেগম জিয়ার সু চিকিৎসা নিশ্চিত এবং কারাগার থেকে মুক্ত করে আনবে ।

দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পরিষদ চট্টগ্রাম উত্তর জেলার আহ্বায়ক যুবদল নেতা এম ইলিয়াছ আলির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির উপদেষ্টা জাহিদুল করিম কচি, বিএনপি নেতা শাহেদ বক্স, শামসুল হক, কামরুল ইসলাম, সরওয়ার উদ্দিন সেলিম, মনজুর রহমান চৌধুরী, ও দিলরুবা সফিক। বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পরিষদের সদস্য সচিব এম শাহ্জান সাহিল ও যুগ্ম আহ্বায়ক আবু বকর সোহেলের পরিচালনায় অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নিজামুল হক তপন, রফিকুল ইসলাম, ইদ্রিস আলী, আবু মুছা, আব্দুল হাই, আলহাজ্ব জাকির হোসেন, আজমত আলী বাহাদুর, মো: ইউসুফ, হাশেম খান, এম.কে নবী, শাফায়েতুল ইসলাম সাবাল, ইলিয়াছ চৌধুরী, সাবের সুলতান কাজল, সুজন পাশা, জিয়াউর রহমান জিয়া, বাবুল মেম্বার, ইফতেখার রুবেল, এরশাদ হোসেন, কামরুল ইসলমা, আইয়ুব মেম্বার, এস.এম লোকমান, কবি নুরুন্নবী, মোস্তাকিম মাহমুদ, কামরুল ইসলাম কুতুবী, মো: আলমগীর, এড. মাঈনুদ্দিন, সাইফুল ইসলাম তালুকদার, কাজী এরশাদ উদ্দিন, তসলিম উদ্দিন ইমন, শফিউল আজম, রায়হান উদ্দিন, মো: হোসেন, জিয়া উদ্দিন মিজান, এম.জি কিবরিয়া, রায়হান আলম, সালাউদ্দিন কাদের আসাদ, সৈয়দ সাফোয়ান আলী, ফরিদ উদ্দিন, ছোটন, রহমত উল্লাহ, রিমন চৌধুরী বাপ্পা, এন. মুহাম্মদ রিমন, রবিন প্রমুখ।

 

About Jisan Ali

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*