সংবাদ শিরোনামঃ

বিদ্যুৎ সংযোগ নেই তবুও বকেয়া বিলের মামলায় মতিন মিয়া কারাগারে

সফিকুল ইসলাম, মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধিঃ বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে চাহিদা ছিলো ১০/১৫ হাজার টাকা মাত্র! মতিন মিয়া সেই সময় চার হাজার টাকা দিয়েও ছিলেন। কিন্তু বাকি টাকা পরিশোদ না করায় বিদ্যুৎ সংযোগ জোটেনি তার কপালে। তবে বিদ্যুৎ না পেলেও বকেয়া বিলের মামলায় দিমজুর মতিন মিয়া ঠিকই যেত হলো কারাগারে। কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের মোচাগড়া গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটেছে। এ ঘটনায় কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর কোম্পানীগঞ্জ জোনাল অফিসের গ্রাহক ও সাধারন মানুষদের মধ্যে দেখা দিয়েছে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা। ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী জানান, মোচাগড়া গ্রামের দক্ষিন পাড়ার বিদ্যুৎহীন ২৫৬টি পরিবার বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য ৪ বছর আগে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এ আবেদন করে। আবেদনের পর স্থানীয় বিদ্যুৎ দালাল আবুল কালাম আজাদ ও আবুল বাসার প্রতিটি গ্রাহকের কাছ থেকে মিটার প্রতি ১০/১৫ হাজার টাকা আদায় করে। ওই সময় মৃত অহিদ আলীর ছেলে আব্দুল মতিন মিয়াও আবেদন করলে কতৃপক্ষ সংযোগের অনুমোদন প্রদান করে। কিন্তু মতিন মিয়া দালাল চক্রদের ৪ হাজার টাকা দিলেও বাকি টাকা দিতে না পারায় বিদ্যুৎ অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে অর্থের বিনিময়ে মতিন মিয়ার আবেদনে একই এলাকার মৃত আব্দুস ছামাদের ছেলে সফিকুল ইসলামের ছবি লাগিয়ে দেয়। পরে মতিন মিয়ার মিটারটি গত ২০১৫ সালের ২২ মার্চ সফিকুল ইসলামকে সংযোগ প্রদান করে। প্রায় ১৭ মাস সে বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রাখে। কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর চান্দিনা অফিসের এজিএম লক্ষন চন্দ্র পাল বাদী হয়ে বকেয়া বিল ৪ হাজার ৭ টাকা অদায়ের জন্য বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডে একটি মামলা করেন। সেই মামলায় মঙ্গলবার রাতে মুরাদনগর থানার এসআই কবির হোসেনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ আব্দুল মতিনকে আটক করে বুধবার দুপুরে কুমিল্লা আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরন করে। এ ব্যাপারে মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত একেএম মনজুর আলম বলেন, একটি মামলায় মতিন মিয়ার নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায় তাকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর কোম্পানীগঞ্জ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার হাবিবুর রহমান আবেদন ফাইলে ছবি পরিবর্তনের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আব্দুল মতিনের নামের মিটার সফিকুল ইসলাম ব্যবহারের বিষয়টি আমাদের জানা নেই। মামলা হওয়ার পূর্বে মতিন মিয়া নোটিশ পেয়ে যদি আমাদের সাথে যোগাযোগ করতেন তা হলে আজ এ ঘটনাটি ঘটতো না।

About Jisan Ali

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*