পেশাগত মর্যাদা ও স্বীকৃতি চান বরিশালের ফ্রিল্যান্সাররা

বরিশালে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে বিভিন্ন ধরনের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ পেয়ে আউটসোর্সিং ও ফ্রিল্যান্সিংয়ে সফল তরুণদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছেই। তবে গুণগত মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণ ও প্রতিষ্ঠানিক উদ্যোগের অপ্রতুলতায় অনলাইনে আউটসোসিং-এ দক্ষ জনবলের ব্যাপক অভাব রয়েছে। এছাড়া আয়কৃত অর্থছাড়ে জটিলতা, চড়া মূল্যে ধীরগতির ইন্টারনেট, লোডশেডিংসহ নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে তরুণরাই এগিয়ে নিচ্ছেন আউটসোর্সিং শিল্পকে। ‘সময় এখন তারুণ্যের, সময় এখন বাংলাদেশের’ স্লোগানে বরিশাল নগরীতে অনুষ্ঠিত এক ফিল্যার্ন্সাস মিটআপে তরুণ আইটি উদ্যোক্তারা পেশাগত মর্যাদা ও সামাজিক স্বীকৃতির পাশাপাশি পুলিশি হয়রানি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। এছাড়া নারী ফ্রিল্যান্সারদের জন্য আরো পৃষ্ঠপোষকতা ও অনলাইনে যৌন হয়রানি থেকে সুরক্ষার দাবি তুলেছেন বরিশালের ফ্রিল্যান্সাররা। ৮ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার বিকেলে শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবে ‘আউটসোর্সি ও আইটি খাত: সম্ভাবনা, প্রতিবন্ধকতা ও উত্তরণের পথ’ বিষয়ক ফ্রিল্যান্সার মিটআপের আয়োজন করে আন্তর্জাতিক দাতব্যসংস্থা সেভ দ্য প্লানেট। সেভ দ্য প্লানেটের চেয়ারম্যান মো: হাসান-উজ-জামান আকনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ২৫ নং ওর্য়াড কাউন্সিলর মোল্লা সাইদুর রহমান জাকির, রিভাইভ আইটির সাব্বির নেওয়াজ, ইঞ্জিনির্য়াস বিডির সত্ত্বাধিকারী জিহাদ রানা, বরিশাল ফ্রিল্যান্সার ফাউন্ডেশনের সভাপাতি মাসুদ রানা, সহ-সভাপতি মুহাম্মদ সাইফুদ্দিন চৌধুরী শামিম, সিনিয়র ফিল্যান্সার মো: আসাদ, সালেহীন সানি, নারী ফ্রিল্যান্সার ও ঝালকাঠি জেলা ব্যান্ডিং গার্ল সালমা আক্তার তিশা, রাজশাহীর ফ্রিল্যান্সার আশরাফুল আলম টিটু ও সেভ দ্য প্লানেট কর্মী লুলু পারভীন প্রমুখ। ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন বরিশালে সন্তানও আন্তর্জাতিক সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্ট শেখ গালিব রহমান। সেভ দ্য প্লানেট’র কান্ট্রি ম্যানেজার সোহানুর রহমানের সঞ্চলনায় বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন এলাকার শতাধিক তরুণ আইটি উদ্যোক্তাও ফ্রিল্যান্সার মুক্ত আলোচনা পর্বে অংশ নিয়ে তাদের নানামুখী প্রতিবন্ধকতা ও সাফল্য-ব্যর্থতার গল্পের ঝুলি নিয়ে বসেন। বরিশাল ফ্রিল্যান্সার ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ মডেল ইয়ুথ পার্লামেন্ট অনুষ্ঠানটি আয়োজনে সহায়তা করে। আউটসোর্সিং খাতের সংশ্লিষ্টরা জানান, অনলাইন কাজে ‘ফ্রিল্যান্সার’ সরবরাহে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। বিশ্বের মোট বাজারের ১৬ শতাংশ বাংলাদেশ দখল করতে পেরেছে। সবচেয়ে বেশি ‘শ্রমিক বা ফ্রিল্যান্সার’ সরবরাহ করে প্রথম অবস্থানে রয়েছে ভারত। তাদের দখলে ২৪ শতাংশ বাজার। জানা যায়, বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সারদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেসের মধ্যে অন্যতম আপওয়ার্কডটকম, ফাইভার, ফ্রিল্যান্সারডটকম। বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সাররা মূলত ডাটা এন্ট্রি ও এসইও, এসইএম, এসএমএমের কাজ বেশি করে থাকেন। এ ছাড়া ওয়েবসাইট ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, রাইটিং, গ্রাফিকস ডিজাইনসহ অন্যান্য কাজও করে থাকেন। আলোচনায় বক্তারা বলেন, অনলাইন আউটসোর্সিংয়ের একটি বৃহৎ ওয়েবসাইট আপওয়ার্কে নতুন করে কাজের আবেদনের সুযোগ পাচ্ছেন না বাংলাদেশিরা। লাখ লাখ বাংলাদেশি তরুণ অ্যাকাউন্ট খোলার পর অর্ডার নিয়ে ক্লায়েন্টকে কাজ বুঝিয়ে দিতে না পারায় ওয়েবসাইটি বাংলাদেশ থেকে নতুন অ্যাকাউন্ট অনুমোদন দিচ্ছে না। দেশে এখনো দক্ষ ফিল্যান্সারের অভাব রয়েছে। এজন্য ভালোমানের প্রশিক্ষণের দরকার। তাহলেই গড়ে উঠবে বিশ্বমানের যোগ্যতাসম্পন্ন ফ্রিল্যান্সার আর বৃদ্ধি পাবে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি। তাই সরকারি নজরদারি ও পৃষ্ঠপোষকতার পাশাপাশি পেশাগত মর্যাদা ও স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে হবে। নারী ফ্রিল্যান্সার সালমা আক্তার তিশা বলেন, ডিজিটাল বিশ্বের প্রতিযোগিতায় টিকে আমরাও আজ হয়েছি ডিজিটাল বাংলাদেশ। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমাদের দৃষ্টিভংগির পরিবর্তন হয় নি। একজন মেয়েও যে পরিবারের বাইরে না গিয়েও ঘরে বসেই কাজ করতে পারেন সে বিষয়ে আমাদের ধারণা এখনো পরিবর্তন হয় নি। বর্তমান সময়ে মেয়েরা যে সকল প্রতিবন্ধকতাকে জয় করতে পারে তাও তারা দেখিয়ে দিয়েছে কাজের মাধ্যমে। মেয়েরা এখন নিজের সুবিধামত সময়ে কাজ করতে পারছে ঘরে বসেই। তারাও হচ্ছেন ফ্রিল্যান্সার, আউটসোর্সিংয়ের কাজ করে হচ্ছেন স্বাবলম্বী। কিন্তু ইদানীং এক্ষেত্রেও নারী ফ্রিল্যান্সাররা যৌন হয়রানির শিকার। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের ভূমিকা পালন করতে হবে। অন্যদিকে বরিশাল ফ্রিল্যান্সার ফাউন্ডেশনের সভাপাতি মাসুদ রানা বলেন, সরকার ফ্রিল্যান্সারদের উন্নয়নে বিভিন্নমুখী উদ্যোগ নিলেও বরিশালে ফ্রিল্যান্সারদেও প্রতি পুলিশি হয়রানি প্রকট আকার ধারন করেছে। ফ্রিল্যান্সারদের পেশাগত মর্যাদা ও যথাযথ স্বীকৃতি প্রদানে সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে। আয়োজক সংস্থা সেভ দ্য প্লানেট’র চেয়ারম্যান মো: হাসান-উজ-জামান আকন জানান, অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি এবং এই পেশায় যারা সফল হয়েছেন তাদের সঙ্গে নতুনদের একটা সেতুবন্ধন তৈরি করার উদ্দেশ্যে অনলাইনে যারা ফ্রিল্যান্সিং বা আউটসোর্সিংয়ের সাথে সম্পৃক্তদেও নিয়ে এই মিটআপের আয়োজন করা হয়। ওয়ানডেক্স নামের একটি অনলাইন প্লাটর্ফমের মাধ্যমে বরিশালে ফ্রিল্যান্সারদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন, আয়কৃত অর্থছাড়সহ বিদ্যমান সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সারদের পেশাগত মর্যাদায় প্রতিষ্ঠায় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।

About Jisan Ali

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*