সংবাদ শিরোনামঃ

নাঙ্গলকোটে নকলে সুবিধা না পাওয়ায় হামলা, সাংবাদিক সহ আহত-৩

আব্দুর রহিম বাবলু :- কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে চলমান এসএসসি পরিক্ষায় নকল সুবিধা না পেয়ে পরিক্ষা কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে উত্তেজিত পরিক্ষার্থীরা। এতে সাংবাদিকসহ ৩ জন আহত হয়েছে। গতকাল শনিবার গণিত পরিক্ষা শেষে নাঙ্গলকোট এ.আর মডেল উচ্চ বিদ্যায়ল কেন্দ্রে এ হামলার ঘটনা ঘটে। ওই পরিক্ষা কেন্দ্রের সচিব ও ময়ূরা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শাহাজাহান বলেন, কেন্দ্রের পাশের নাঙ্গলকোট সরকারী ডিগ্রি কলেজের একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অথিতি হিসেবে কুমিল্লা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর রুহুল আমিনের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। এ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহনের পূর্বে তিনি নাঙ্গলকোট এ.আর উচ্চ বিদ্যায়ল কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এসময় পিটিআই সুপার হারুনুর রশিদ ভুঁইয়া, কুমিল্লা বোর্ডের উপসচিব একেএম সাহাব উদ্দিন ও জেলা শিক্ষা অফিসার আবদুল মজিদসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) মো. মাইন উদ্দিন ও প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা কেন্দ্রে অবস্থান করেন। পরিদর্শনকালে নাঙ্গলকোট বেগম জামিলা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের খন্ডকালীন শিক্ষক জামাল উদ্দিনকে হলের দায়িত্ব পালন থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। এরপর পরিক্ষা শেষে ভালো উত্তর দিতে না পারায় উত্তেজিত পরিক্ষার্থীরা কেন্দ্রের অফিস কক্ষে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। খবর পেয়ে নাঙ্গলকোট থানা পুলিশ এসে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় হামলার ছবি তুলতে গিয়ে পরিক্ষার্থীদের রোষানলে পড়েন দৈনিক কালেরকন্ঠ পত্রিকার নাঙ্গলকোট প্রতিনিধি মাঈন উদ্দিন দুলাল। শিক্ষার্থীরা তার মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে যায় ও তাকে মারধর করে। এঘটনায় বিদ্যালয়ের এমএলএসএস জীবন চন্দ্র দাশ ও মরোয়ারা বেগম নামের এক পথচারী আহত হয়েছে। এছাড়াও পরিক্ষা কেন্দ্রের সচিব মো. শাহাজাহান ও অন্যান্য বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের গালমন্দ করেন বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা। তবে পরিক্ষার্থীদের অভিযোগ- পরিক্ষা শুরুর ২০ মিনিট পর প্রশ্নপত্র বিতরণ করে ও পরিক্ষা শেষ হওয়ার ১০ মিনিট আগে উত্তরপত্র নিয়ে নেন হল পরিদর্শকরা। এছাড়াও কিছু পরিক্ষার হলে শিক্ষকরা নকল সুবিধা দিলেও অন্য হলগুলোতে শিক্ষকদের কড়াকড়িতে ঠিকমতো পরিক্ষা দিতে না পারায় বিক্ষোভ করেন তারা। জানা গেছে, চলতি এসএসসি পরিক্ষায় এ বছর উপজেলার ৭টি বিদ্যালয়ের ৭শ’ ৫০ জন পরিক্ষার্থী নাঙ্গলকোট এ.আর উচ্চ বিদ্যায়ল কেন্দ্রে পরিক্ষায় অংশ গ্রহণ করে। গতকাল শনিবারও ৭শ’ পরিক্ষার্থী গণিত পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করার কথা ছিল। এরমধ্যে ৯ পরিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, কিছু উত্তেজিত পরিক্ষার্থী কেন্দ্রে বিক্ষোভ করার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ ঘটনা সম্পর্কে কুমিল্লা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর রুহুল আমিন দু:খ প্রকাশ করে বলেন, এটি অনাকাঙ্খিত একটি ঘটনা। আমি তাৎক্ষনিক উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও থানার ওসিকে বিষয়টির খোঁজ নিয়ে যারা এঘটনার সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলেছি।

About Jisan Ali

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*