সংবাদ শিরোনামঃ

যে কোন সময় ডুবে যেতে পারে পৃথিবী! (ভিডিও)

প্রায় সোয়া এক লাখ বছর আগের কথা। ডুবে গিয়েছিল পৃথিবীর প্রায় অধিকাংশ স্থল ভাগ।

আর এর কারণ হিসেবে একমাত্র দায়ী ছিল অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের পাহাড় সমান বিশাল বিশাল বরফের চাই গলে যাওয়া।

এবার সেই অশনিসংকেত দিলেন পরিবেশ ও ভূবিজ্ঞানীরা।

প্রাগৈতিহাসিক এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

তবে এবারেরটি হতে পারে আরও ভয়াবহ। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এবার মহাসাগরগুলোর জলস্তর ৭০-৮০ ফুট পর্যন্ত উঠে আসবে, যা কিনা ৬-৭ তলা বাড়ির সমান!

এতে প্রথম ধাক্কাতেই ডুবে যাবে বাংলাদেশ, মালদ্বীপ, শ্রীলংকার মতো দেশগুলো।

সম্প্রতি ওরেগন স্টেট ইউনিভার্সিটির জলবায়ু বিজ্ঞান বিভাগের একটি গবেষণায় প্রকাশ হয়েছে এসব তথ্য।

আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান-জার্নাল ‘সায়েন্স’-এ গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে।

চলতি মাসেই ওয়াশিংটনে আমেরিকান জিওফিজিক্যাল ইউনিয়নের (এজিইউ) বৈঠকে এ গবেষণাপত্রটি পড়া হয়েছে।

সে গবেষণাপত্রে এর জন্য একমাত্র দায়ী করা হয়েছে বৈশ্বিক উষ্ণতাকে। সেখানে বলা হয়েছে- খুব দ্রুত গলে যাচ্ছে কুমেরুর বরফের বড় বড় চাঙরগুলো।

এমনটি চলতে থাকলে আগামী ৫০ বছরের মধ্যেই মহাপ্লাবনে প্লাবিত হবে পৃথিবী। ধ্বংস হয়ে যেতে পারে এই সভ্যতা!

ওই গবেষণায় জলবায়ু বিজ্ঞানীদের অন্যতম সিদ্ধার্থ রঙ্গনাথন ও দেবযানী দত্ত ভট্টাচার্য জানান, ‘সোয়া এক লাখ বছর আগে বায়ুমণ্ডল ভেদ করে এসেছিল সূর্যের ভয়ঙ্কর সৌরঝড়, সৌরবায়ু। যে কারণে পৃথিবী এতটাই উষ্ণ হয়েছিল যে, কুমেরুর বরফের পাহাড়গুলো খুব দ্রুত হারে গলতে বাধ্য হয়েছিল।’

তারা বলেন, সেই সময় বিশাল ওই চাঙরগুলো গলে যাওয়ার পেছনে মানবসভ্যতার কোনো হাত ছিল না। তা ছিল একেবারেই প্রাকৃতিক ঘটনা।

কিন্তু এবার পৃথিবীকে এমন ধ্বংসের দিকে সভ্যতা নিজেই ঠেলে দিচ্ছে বলে জানান বিজ্ঞানীরা।

গবেষকরা দেখেছেন, গত দেড় থেকে দুই দশক ধরে যে গতিতে কুমেরুর বরফ চাইগুলো গলে গিয়ে পাতলা হয়ে গেছে, সে হিসাবে কুমেরুর পশ্চিম প্রান্তের বরফের চাইগুলো আরও দ্রুত ও বেশি পরিমাণে গলে যাবে।

তারা জানান, গত ২৫ বছরে কুমেরুতে গলেছে তিন লাখ কোটি টন বরফ! সে তুলনায় বরফ জমেনি।

তবে কবে হতে পারে সেই মহাপ্লাবন! সেই প্রশ্নে একটি পরিসংখ্যান এসেছে ওই গবেষণায়।

তারা বলছেন, প্রতি ১০০ বছরে সমুদ্রপৃষ্ঠের পানি ৮-১০ ফুট করে উঠছে।

সে হিসাবে ৮০ ফুট উঠতে ৮০০ বছর লাগার কথা। সেই অর্থে ২৮০০ সালের মধ্যেই সেই মহাপ্লাবন হবে পৃথিবীতে।

তবে যে হারে গলছে অ্যান্টার্কটিকা! তাতে এ সময় খুব দ্রুতই কাছে চলে আসছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন জলবায়ু বিজ্ঞানীরা।

About Jisan Ali

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*