সংবাদ শিরোনামঃ

চট্টগ্রাম বিআরটিএ লাইসেন্স প্রদানে এডি, মোটরযান পরিদর্শক এর অনিয়মের অভিযোগ

আব্দুল আউয়াল মুন্না: চালকরা ড্রাইভিং লাইসেন্স গ্রহনে আগ্রহ প্রকাশ করলেও বিআরটিএ কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত ঘুষ বাণিজ্যের জন্য লাইসেন্স করতে না পেরে লাইসেন্স বিহীন গাড়ী চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে নগরীর ৩ নং রুটের বাস চালক মোহাম্মদ শফিউল আলম। শফিউল আলম বলেন, আমি গত তিন মাস আগে বিআরটিএ চট্টগ্রাম কার্যালয়ে একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স করার জন্য যায়। বিআরটিএতে প্রবেশ করে দেখি তথ্য কেন্দ্র কেউ নেই। পরে সেখানে একটি লোক আমাকে বললো ভাই কেন এসেছেন। তার কথায় আমি বললাম একটা ডাইভিং লাইসেন্স করতে। সে বললো আপনি এভাবে ঘুরে লাইসেন্স করতে পারবেন না আমার সাথে আসুন করে দিচ্ছি। পরে কাগজপত্র নিয়ে ব্যাংকে টাকা জমাদিয়ে শিক্ষানবীশ লাইসেন্স করার জন্য গেলে। কোন অফিসার কথা বলতে রাজি হয়নি পরে ৩০০ টাকা ঘুষ দিয়ে রানার লাইসেন্স করি। এর তিন মাস পরে নিদিষ্ট তারিখে পরীক্ষা দিতে গেলে দালালদের সাংকেতিক চিহ্ন না থাকায় আমাকে লিখিত পরীক্ষায় ফেল করে দেয়। আমার সাথে যাওয়া আরেকজন চালক বললো ভাই এইখানে পাস করতে হলে ৪০০০ টাকা দিতে হয়। না হয় সারাজীবন পরীক্ষা দিয়েও পাস করবে না। চালকদের এমন অভিযোগে অনুসন্ধানে গিয়ে দেখা যায়, বিআরটিএ চট্টগ্রামে একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে হলে সরকারী জমার বাহিরে আরো ৬-৭ হাজার টাকা ঘুষ প্রদান করতে হয়। প্রথমে রার্নার লাইসেন্স করতে হলে অফিস খরচের নামে ৩০০ টাকা দিতে হয় অফিসে কর্মরত বেসরকারী স্টাফদের। এরপরে পরীক্ষার সময় হালকা মোটরযানের লাইসেন্স হলে ৪০০০ টাকা, আর মোটরসাইকেল-হালকা যান এক সাথে হলে ৪৫০০ টাকা দিতে হয়। এই টাকার ক্যাশিয়ার হচ্ছে সেলিম নামে এক অফিসের কর্মচারী। এইভাবে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বিআরটিএ লাইসেন্স শাখা। এই টাকা উপ-পরিচালক, সহকারী পরিচালক, মোটরযান পরিদর্শক ভাগভাটোয়ারা করে থাকেন। এডি ওসমান সরওয়ার আলম ও মোটরযান পরিদর্শক মো. মুছার বিরুদ্ধে লাইসেন্স প্রাদানের এমন অভিযোগ পাওয়া গেলেও দেখার কেউ নেই।

About Jisan Ali

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*