সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ওসি নেয়ামতের গায়েবী মিথ্যে মামলার মূল রহস্য উদঘাটন, নিন্দার ঝড়

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

গত ১৪ নভেম্বর পটিয়ায় চুমকি নামে এক গৃহবধূকে শশুড়বাড়ির লোকজন হত্যা করে অভিযোগ এনে নিহত চুমকির বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। এমন অভিযোগে সিটিজি ক্রাইম টিভির প্রতিনিধি দল অনুসন্ধানে নামে।

ঘটনার সূত্রপাত ১৬ নভেম্বর। সিটিজি ক্রাইম টিভি’র বিভাগীয় প্রধান সাংবাদিক রাশেদুল ইসলাম রাশেদ একজন নারী সাংবাদিকসহ ক্যামেরাম্যান নিয়ে পটিয়ায় যায় গৃহবধূ চুমকি হত্যার রহস্য উদঘাটনে। এসময় তারা হত্যা সম্পর্কে তথ্যের জন্য পটিয়া থানার ওসি নেয়ামত উল্লাহর সহযোগিতা চাইলে তিনি সাংবাদিকদের ব্যক্তিগত কক্ষে ঢেকে নিয়ে অসদাচরণ করেন।পরে হত্যা সম্পর্কে প্রাপ্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য ও ভিডিও চিত্র দিয়ে সিটিজি ক্রাইম টিভি গত ১৯ নভেম্বর সংবাদ প্রকাশ করে।একই সাথে এ হত্যাকান্ড নিয়ে সিটিজি ক্রাইম নিউজ, দৈনিক তাজা খবর, অপরাধ বিচিত্রা, অগ্রযাত্রা, দৈনিক ঘোষণা, দৈনিক লাল সবুজের দেশসহ বেশ কয়েকটি জাতীয় ও অনলাইন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ পায়। ২০ নভেম্বর আদালতের নির্দেশে চুমকি হত্যা মামলা নেয় পটিয়া থানা পুলিশ।

২৭ নভেম্বর সকালবেলা পটিয়া থানার তদন্ত অফিসার রেজাউল করিম চুমকি হত্যার ব্যাপারে অধিকতর তথ্য দেয়ার জন্য সিটিজি ক্রাইম টিভির সাংবাদিক রতন বড়ুয়া ও সাংবাদিক সাহেদুল ইসলামকে ফোন করে থানায় ডাকলে দুপুরে তারা থানায় যায়। পূর্বে সংবাদ প্রকাশে জের ধরে ওসি নেয়ামত ও তার সঙ্গীরা সাংবাদিক দুজনে চড়াও হয়ে গাড়ি,ক্যামেরা,মোবাইল সহ সব কেড়ে নিয়ে তাদের নির্যাতন শুরু করে।তারপর মিথ্যে অভিযোগ এনে দুই সাংবাদিককে ২০ হাজার টাকার চাঁদাবাজি মামলা দেয়া হয়।আর সিটিজি ক্রাইম টিভি’র চেয়ারম্যান আজগর আলি মানিককে শর্ত ছুঁড়ে দেয়া হয় প্রকাশিত সব সংবাদ মুছে ফেইসবুকে ক্ষমা প্রার্থনা ও ২০ হাজার টাকা দাবী করে, না হয় গ্রেফতার দুই সাংবাদিককে রিমান্ডে এনে অত্যাচার করার হুমকি প্রদান করা হয়।উপায় না পেয়ে নিরীহ দুই সাংবাদিককে ওসি নেয়ামতের প্রহসন থেকে বাঁচাতে আজগর আলি মানিক সরল বিশ্বাসে তার সব শর্ত মেনে নেয়। কিন্তু অন্যায়,মিথ্যে ও ধোঁকাবাজির বশীভূত হয়ে গত ২ ডিসেম্বর ওসি নেয়ামত সাংবাদিকদের ৫ দিনের রিমান্ড দাবী করে এবং একই মামলায় আসামী করে সিটিজি ক্রাইম টিভি’র চেয়ারম্যান আজগর আলি মানিক ও বিভাগীয় প্রধান সাংবাদিক রাশেদুল ইসলাম রাশেদকে।

অথচ তারা গত ২৪ নভেম্বর থেকে ৪ দিন ঢাকায় অফিসের কাজে ব্যস্ত ছিলেন।ঘটনার দিন তারা অফিসের কাজে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন যা বিভিন্ন পত্র পত্রিকায়ও প্রকাশ পেয়েছে।এছাড়া ঢাকায় অবস্থানকালীন বিভিন্ন প্রমাণপত্রও রয়েছে। তাহলে এই গায়েবী মিথ্যে মামলা কেন! এটা কি সংবাদ প্রকাশের জেরে ওসির ক্ষিপ্রতার বহিঃপ্রকাশ নাকি ক্ষমতার অপব্যবহার!

এব্যাপারে সিটিজি ক্রাইম টিভি’র চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক নেতা আজগর আলি মানিক জানান, আমি ও আমার প্রতিষ্ঠান দীর্ঘ ১৬ বছরের অধিক সময় ধরে জনগণের জন্য সত্য প্রকাশ করে যাচ্ছি। সাংবাদিকরা জাতির বিবেক।অথচ ওসি নেয়ামত ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য নিরীহ সাংবাদিকদের নির্যাতন ও মামলার মাধ্যমে জাতির বিবেককে নষ্ট করার প্রয়াস দেখিয়েছে। তাই আমি মনে করি জনগন তাদের বিবেককে রক্ষা করার জন্য সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এগিয়ে আসবে।

বাংলাদেশ অনলাইন জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন এর চেয়ারম্যান রিয়াজ উদ্দিন রানা বলেন, পটিয়া থানার ওসি মিথ্যে মামলা দিয়ে সাংবাদিকদের ঘায়েল করার বৃথা চেষ্টা চালিয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে আমি এধরনের কার্যকলাপের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

বনপার মহাসচিব এ এইচ এম তারেক চৌধুরী সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ওসি নেয়ামতের এইধরনের প্রতিহিংসামূলক কার্যকলাপ কিছুতেই মেনে নেয়া যায় না।তাই সুষ্ঠু তদন্ত করে ওসি নেয়ামতকে শাস্তি প্রদান করা হোক।আর দেশের সকল সাংবাদিককে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করারও আহবান জানান তিনি।

ফেডারেশন অব বাংলাদেশ জার্নালিস্ট অর্গানাইজেসন এর চেয়ারম্যান এস এম মোর্শেদ বলেন, এফফিজেও সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষার সংগঠন। সাংবাদিকদের সাথে কোন অন্যায় হলে এ সংগঠন তা কঠোর হস্তে দমন করবে। বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে পটিয়া থানার ওসি নেয়ামতকে দ্রুত অপসারণের দাবী জানান এ সাংবাদিক নেতা।

About Jisan Ali

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*