সংবাদ শিরোনামঃ

নাইকো মামলার শুনানিতে আদালতে খালেদা

নাইকো দুর্নীতি মামলায় শুনানির জন্য পুরান ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে তোলা হয়েছে মামলার প্রধান আসামি খালেদা জিয়াকে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা খালেদা জিয়াকে সেখান থেকে নিয়ে বৃহস্পতিবার (৮ নভেম্বর) বেলা পৌনে ১২টার দিকে নাজিমউদ্দিন রোডের কারাগারে স্থাপিত আদালতে তোলা হয়।

এর আগে বেলা ১১টা ২০ মিনিটে বিএনপি প্রধানকে বিএসএমএমইউ থেকে বের করে কালো রঙের একটি গাড়িতে করে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। ১১টা ৩৫ মিনিটের দিকে কারাগারে ঢোকে খালেদাকে বহনকারী গাড়িটি।

নাইকো দুর্নীতি মামলার বিচার এর আগে বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থপিত আদালতে হতো। তবে বৃহস্পতিবার আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি শুরু হওয়ার আগে বুধবার (৭ নভেম্বর) কারাগার ভবনে ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের অস্থায়ী এজলাস বসানোর আদেশ জারি হয়।

খালেদা ছাড়াও নাইকো দুর্নীতি মামলার অন্য আসামিরা হলেন- সাবেক আইনমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন, সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন, ঢাকা ক্লাবের সাবেক সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া, সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন ও নাইকো’র দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।

কানাডার কোম্পানি নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতিসাধন ও দুর্নীতির অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দুদকের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

২০০৮ সালের ৫ মে এ মামলায় খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক এস এম সাহেদুর রহমান। অভিযোগপত্রে প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৫ বছর সাজা হওয়ার পর খালেদা জিয়াকে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়। সেখান থেকে গত ৬ অক্টোবর চিকিৎসার জন্য বিএসএমএমইউতে আনা হয় সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীকে। এরমধ্যে আবার চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ২৯ অক্টোবর খালেদা জিয়াকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এতোদিন বিএনপি প্রধান হাসপাতালের ভিআইপি কেবিনে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।

এদিকে, খালেদাকে কারাগারে আনার আগে নাজিমউদ্দিন রোড ও তৎসংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। কারাগারের আশপাশের সড়কগুলোতে ব্যারিকেড দিয়ে সন্দেহভাজনদের তল্লাশি করতেও দেখা যায়।

About Jisan Ali

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*