সংবাদ শিরোনামঃ

পার্বত্য অঞ্চলে বনবিভাগ কে বোকা বানিয়ে মেডেল আদায় করছে আনারস চাষীরা !!

মাহবুব -ই-সামদানী_মাটিরাঙা প্রতিনিধিঃ  

সম্প্রতি খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দাবান পাহাড়ে বেড়েছে আনারস বাগান চাষের হিড়িক। যদি প্রশ্ন করা হয় কেন? উত্তরে আপনি হয়তো বলবেন আনারস চাষ একটি অল্প পুজিঁতে বিপুল পরিমান লাভজনক প্রকল্প। এর জন্য অবশ্য চাষীরা সরকারি খাত/নিকটস্থ কৃষি অফিস থেকেও প্রয়োজনীয় সার,ঔষুধ, কীটনাশক ও বিভিন্ন ধরনের সুযোগ সুবিধা ভোগ করে এবং শুধু তাই নয় সরকারি -বেসরকারী ব্যাংক ও বিভিন্ন এনজিও খাত থেকেও আনারস চাষের প্রকল্পকে কেন্দ্র দেখিয়ে নেয়া হচ্ছে বিরাট পরিমাপের লোন সুবিধা। আবার সরকার থেকে বিজয়ী হয়ে জিতেও নিয়ে যাচ্ছে পুরুষ্কার সহ খ্যাতি মান ম্যাডেল। এবার আসুন এর পেছনের বিস্তারিত গল্প সমন্ধের ব্যাপারে আলোচনা করা যাক হঠাত করে চাষীরা কেনো আনারস চাষের প্রতি এতোটা ঝুকেঁ পড়েছে, প্রকৃত পক্ষে সম্প্রতি বন-উজার করা দস্যুরাই আনার চাষী! এরা শাক দিয়ে মাছ ঢাকছে বনবিভাগকে বোকা বানিয়ে।একটু লক্ষ করুন আজ যে সকল পাহাডে/ স্হানে বিরাট বিরাট আনারস বা কলা বাগান চাষ হচ্ছে মাস/বছর খানেক পূর্বে সেখানে কি ছিল? এইবার উত্তরে অবশ্যই বলবেন গাছ- গাছালিতে পরিপূর্ণ বিশাল আঁকারের বনভুমি! জ্বিঁ আপনি সঠিক উত্তরই দিয়েছেন। তাহলে আজ তা গেলো কই ? অথচ দেখুন ঐ সকল বাগান মালিকরাই অগচোরে অবৈধ ভাবে গাছ -পালা কেটে বন উজার করছে ! দিন দিন বন উজারের কারনে পরিবেশ আজ প্রাকৃতিক র্দূযোগ ও অক্সিজেনের হুমকি হয়ে দায়িছে !! বিশ্ব প্রাকৃতিক পরিবেশের ভার্রসম্য আজ বিপর্যয়ের সম্মুখিন হয়ে পড়ছে। নিরবে দিনের পর দিন এই বনদস্যুরাই বন উজার করে পরিবেশ ধ্বংস করছে আসছে। হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ কোটি টাকা ! বন বিভাগের অভিযানের হাত থেকে বাচাঁর জন্য ভয়েই ঝুঁকে পড়ছে আনাঁরস বা কলা চাষের মত বাগানের প্রতি। অথচ বনবিভাগ আজও ঘুমন্ত ! এরা বুঝঁতেই পারলো না র্দুস্যুরা আজ কি করে শাক দিয়ে মাছ ঢেকে সফল চাষীতে পরিনত হয়েছে !! কবে তাদের ঘুম ভাঙব ? পার্বত্য জেলার খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দারবান এলাকায় ৬ লক্ষাধিক একর বনাঞ্চল ৫০ শতাংশ বৃক্ষশূন্য ও ভুমি বেদখল হয়ে যাওয়ার ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি কাঠ পাচারকৃত কাঠ বোঝায় জিপের চাপায় এক পথচারি নিহত হওয়ার ঘটনা কারো অজানা নয়। তথ্য অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, জীববৈচিত্র্যের সংরক্ষণের জন্য প্রকল্প বাস্তবায়নে বন মন্ত্রনালয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউএনডিপি জাতীয় বন নীতি ১৯৯৪ এবং ২০ বছর মেয়াদি বন মহাপরিকল্পনা ১৯৯৩-২০১৩ সাল পযন্ত কার্ষকর রয়েছে বলে জানা গেছে। তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০১৫ সালে দেশের ২০ শতাংশ ভুমি বনায়ন করার কথা পার্বত্য অঞ্চলের ভিন্ন দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ এর অধীনে পাবর্ত্য এলাকায় কোনো ভুমিকা পারছে না। (সংরক্ষন) আইন ১৯৭৮ এর ২৩ এবং ২৪ ধারা পার্বত্য অঞ্চলকে অভয়ারণ্য ঘোষণা করতে পারেন। ১৮৭০ খ্রিঃ নিধারিত ১ লাখ ৮৫ হাজার একর রির্জাভ ফরেস্টের বন জীববৈচিত্রের ভুমি রক্ষায় আন্তজাতিক, জাতিয় ও স্থানীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখা দরকার। এ জন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। অন্যদিকে পাবর্ত্য অঞ্চলে লাইসেন্সবিহীন ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠা ব্রিক ফিল্টগুলোতে অবাধে কচিকাঁচা গাছ কেটে পোড়ানোর ফলে পরিবেশ বির্পযয়ের আশষ্কা দেখা দিয়েছে। প্রশাসনের চোখ ফাকিঁ দিয়েই চোরাই আড়তে মজুদ করা হয় এসব অবৈধ কাঠ। পাচার রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জরুরী ভিত্তিতে কোন ব্যবস্থা না নিলে অচিরেই বনভুমি উজার ও অবাধে নিধনের কারণে বিরান ভুমিতে পরিণত হবে। আর বেড়েই চলবে আনারস চাষের প্রতিযোগিতা !!

About Jisan Ali

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*