সংবাদ শিরোনামঃ

কপালে বিদেশ নাই, মালয়েশিয়া থেকে রাতে ঢাকা এয়ারপোর্টে নাইম্যা বাসে ওঠার টাকাও নাই !

 

মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর এয়ারপোর্টের বোর্ডিং লাউঞ্চে বসে ছিলেন শামিম রহমান।মালয়েশিয়াতে ব্যবসা করতেন শামিম রহমান । তিনি বিশেষ এক কাজে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন । এয়ারপোর্টের বোর্ডিং লাউঞ্চে বসে ফেসবুকে কিছু মেসেজের জবাব দিচ্ছেন।হঠাৎ একজন তরুণ ছেলে এসে বলছে ভাই আপনার মোবাইল থেকে ১ মিনিট কথা বলা যাবে? শামিম রহমান বলল -হ্যাঁ, যাবে। নাম্বারটা বলুন। নাম্বার টিপে কল দিলাম। কল রিসিভ করল তার মা। পরে বুঝতে পারলাম তার বাবা পাশেই ছিল। মা ও ছেলের কথোপকথন চলছে। -মা, আমি আজকে চইলা আইতাছি। কপালে বিদেশ নাই। তোমরা কাইন্দো না। আমার কাছে কোনো টাকা-পয়সা নাই। রাতে ঢাকা এয়ারপোর্টে নাইম্যা বাসে ওঠার টাকাও নাই। যদি পারো সকালে কাউরে পাঠায়ো আমারে নেওয়ার লাইগ্যা।এই স্বল্প কয়েকটা কথা বলেই ফোনটা ফেরত দিল। এই ফাঁকে দেখে নিলাম ছেলেটির পরনের ছেঁড়া কাপড়গুলো ঢাকার কোনো রিকশাচালকের চেয়েও বেশি খারাপ অবস্থায় আছে। পায়ের জুতাটাও ছিঁড়ে গেছে। জীর্ণশীর্ণ গায়ে খালি হাতে প্লেনে উঠতে যাচ্ছে ইমিগ্রেশনের কাজ শেষ করে। সদ্য নির্বাচিত মালয়েশিয়া (মাহাথির-আনোয়ার) সরকারের অবৈধ অভিবাসীবিরোধী অভিযানের শিকার হয়ে, দালালদের কাছে জমি-বাড়ি, টাকা সর্বস্ব হারিয়ে, হয়তো কিছু দিন হাড়ভাঙা খেটে পেটে ভাতে পড়েছিল এই ঝলমলে ধনীদের দেশে। বুকভরা আশা ছিল একদিন কর্মসংস্থান হবে, টাকা হবে। ভাগ্যের চাকা ঘুরে দাঁড়াবে। কিন্তু কিছুই হয়নি। নিঃস্ব হয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে এই তরুণকে। কার কি আসে যায়।যদি এই ছেলেটি প্রতি মাসে দেশে টাকা পাঠাতো রেমিট্যান্সের হিসাবটা না হয় বাড়ত। তবু কি ওর ভালোমন্দে কারো কিছু এসে যেত? আরও লক্ষ করলাম- এই হতভাগার মধ্যে কয়েকশ মরে গেলেই বা কার কি? এদের রক্তনালীর ওপর জোঁকের মতো বসে থাকা সিন্ডিকেট, যেখানে উভয় দেশের শাসক গোত্রের লোকেরাও জড়িত। এরা বেঁচে থাকলেও ওদের লাভ, মরে গেলেও ওদের লাভ।আবার সেই আগের ঘটনায় ফিরে আসছি। ওই তরুণ ছেলেটির চোখের কোটরে যে হতাশা আর অভিশাপের ছাপ দেখেছি, তাতে মনে পড়ল- প্রকৃতির বিচার বলে একটি কথা আছে। একদিন ওদের প্রতি অন্যায়ের বিচার প্রকৃতিই করবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অনুরোধ রইল মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের তিনি যেন দেশে ফিরিয়ে নেন।অবৈধ অভিবাসীদের অমানসিক ও লোমহর্ষক নির্যাতন থেকে রক্ষা করেন। আপনি রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বিশ্বের কাছে ‘মানবতার মা’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। প্রবাসীরাও আপনার সন্তানের মতো। মা সন্তানকে কখনও নিরাশ করে না। আশা করি আপনিও মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত জেলে ও বাহিরে অবৈধ অভিবাসীদের দেশে ফিরিয়ে নেবেন।

About Jisan Ali

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*