সংবাদ শিরোনামঃ

সুনামগঞ্জ সীমান্তে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে ৪৫লক্ষ টাকার পাথর ও কয়লা পাচাঁরের অভিযোগ……

প্রতিনিধি সুনামগঞ্জ:
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার লাউড়গড়,বালিয়াঘাট ও চাঁরাগাঁও সীমান্ত দিয়ে লক্ষলক্ষ টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে ভারত থেকে প্রায় ২ হাজার ৫শত মে.টন পাথর ও সাড়ে ১৬মে.টন কয়লা পাঁচার করার অভিযোগ উঠেছে। পাচাঁরকৃত পাথরের মূল্য ৪০লক্ষ ৮০হাজার ৫শত টাকা ও কয়লার মূল্য ১লক্ষ ৬৫হাজার টাকা। আজ ০৭.০২.১৮ইং বুধবার সকাল ৫টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত এই পাথর ও কয়লা পাচাঁর করা হয়েছে। এবং পাচাঁরকৃত পাথর ও কয়লা থেকে উঠানো হয়েছে লক্ষলক্ষ টাকা চাঁদা। কিন্তু এব্যাপারে চোরাচালানী ও চাঁদাবাজদের বিরোদ্ধে আইনগত কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।
এব্যাপারে কলাগাঁও,চাঁরাগাঁও শুল্কস্টেশনের ব্যবসায়ীরা জানায়,চাঁরাগাঁও বিজিবি ক্যাম্পের সোর্স পরিচয় দিয়ে জঙ্গলবাড়ি গ্রামের আছালক মিয়ার ছেলে চোরাচালানী তোতা মিয়া ৮৫টি ট্রলি দিয়ে সীমান্তের ১১৯৫পিলারের কলাগাঁও ছড়া এলাকা দিয়ে ভারত থেকে ৯৬০মে.টন ও ১১৯৫এর ৫এস পিলার সংলগ্ন চাঁরাগাঁও ছড়া এলাকা দিয়ে মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে সোর্স শফিকুল ইসলাম ভৈরব ৬৫টি ট্রলি দিয়ে ভারত থেকে ৫৭৬মে.টন পাথর পাচাঁর করে আজ ০৭.০২.১৮ইং বুধবার সকাল ৫টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত চাঁরাগাঁও বিজিবি ক্যাম্পের সামনের রাস্তা দিয়ে কলাগাঁও গ্রামের সমসার হাওরপাড়ের পাথরঘাটা নামকস্থানে নিয়ে মজুত করে ওপেন বিক্রি করে। এবং পাচাঁরকৃত ১ ট্রলি (৩২ফুট) পাথর থেকে চাঁরাগাঁও বিজিবি ক্যাম্পের নামে ৭০টাকা, বীরেন্দ্রনগর কোম্পানী কমান্ডারের নামে ৩০টাকা, তাহিরপুর থানার নামে ৫০টাকা,ইপি মেম্বার হাসান আলী নিচ্ছে ৫০টাকা,ঢাকা প্রধান কার্যালয়, বিভাগ,জেলা ও উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের নাম ভাংগিয়ে কয়লা চোরাচালান মামলার আসামী আব্দুর রাজ্জাক নিচ্ছে ৫০টাকা, চাঁদা উত্তোলনকারী দুই সোর্সের নামে ৩০টাকা, সুনামগঞ্জ ডিবি পুলিশের নামে ২০টাকা ও সুনামগঞ্জ ২৮ব্যাটালিয়নের অধিনায়কের নামে ৫০টাকাসহ মোট ৩৫০টাকা হারে মোট ১২শত ট্রলি থেকে সর্বমোট ৪লক্ষ ২০হাজার টাকা চাঁদা নেওয়া হয়েছে বলে জানাগেছে। এর আগে গত ২৬.০১.১৮ইং শুক্রবার সারাদিনে ১হাজার মে.টন পাথর পাচাঁর করার হয়েছিল। যার মূল্য ১৪লক্ষ টাকা। এব্যাপারে বিজিবির সোর্স তোতা মিয়া বলেন,আমি যা করেছি বিজিবির নির্দেশে করেছি,আপনার কিছু জানার থাকলে ক্যাম্প থেকে জানতে পারেন। চাঁরাগাঁও বিজিবি ক্যাম্প কমান্ডার হাবিলদার মোনায়েম বলেন,আমার পরিচয় বলা যাবে না,আমি এখন ব্যস্ত আছি যা হচ্ছে তা উপরের নির্দেশেই হচ্ছে।
অন্যদিকে বালিয়াঘাট সীমান্তের লাকমা ও টেকেরঘাট এলাকা দিয়ে বিজিবির হাবিলদার ফখরুদ্দিন,নায়েক সাব্বির ও ওলি টহলে গিয়ে ১ বস্তা কয়লা থেকে ১৫০টাকা করে চাঁদা নিয়ে একাধিক চোরাচালান ও চাঁদাবাজি মামলার জেলখাটা আসামী বিজিবির সোর্স পরিচয়ধারী জিয়াউর রহমান জিয়া,কালাম মিয়া,আব্দুল হাকিম ভান্ডারী,ইদ্রিস আলী,রতন মহলদার,মানিক মহলদার,কামরুল মিয়া,শরিফ মিয়া,তিতু মিয়া,মোক্তার মহলদারকে দিয়ে আজ ০৭.০২.১৮ইং বুধবার ভোর ৫টার সময় ২৫০বস্তা(সাড়ে ১৬টন) কয়লা পাচাঁর করেছে বলে স্থানীয়রা জানায়। পাচাঁরকৃত কয়লার মূল্য ১লক্ষ ৬৫হাজার টাকা। উপরের উল্লেখিত চোরাচালানীরা বিজিবি সোর্স পরিচয় দিয়ে প্রতিদিন ওপেন চোরাচালান ও চাঁদাবাজি করলেও তাদের বিরোদ্ধে জোড়ালো কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না প্রশাসন। এব্যাপারে বালিয়াঘাট ক্যাম্পের হাবিলদার ফকরুদ্দিন বলেন, আমাদের কোন সোর্স নাই,চোরাচালানের বিষয়ে আমি কিছু জানি না।
অপরদিকে লাউড়গড় সীমান্তের ১২০৩পিলার সংলগ্ন যাদুকাটা নদী দিয়ে ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার কেরামত, এফএস মাহফুজ ও হাবিলদার হুমায়ুনের নির্দেশে চোরাচালান ও চাঁদাবাজি মামলার আসামী লাউড়গড় গ্রামের মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে আনসারুল হক ও সামসুল হকের ছেলে সেলিম মিয়া ১ লড়ি পাথর(৬টন) থেকে ২০০টাকা করে চাঁদা নিয়ে আজ ০৭.০২.১৮ইং সকাল ৬টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ১৫০লড়িতে করে মোট ৯০০মে.টন পাচাঁর করেছে। পাচাঁরকৃত পাথরের মূল্য ১৪লক্ষ ৬২হাজার ৫০০টাকা। এছাড়া ১ বস্তা কয়লা থেকে ১০০টাকা, ১ বারকি নৌকা পাথরের থেকে ৫০০টাকা,১টি সেইভ মেশিন থেকে ১২০০টাকা,১টি গরু থেকে ২২০০টাকা,১টি ঘোড়া থেকে ৩৫০০টাকা চাঁদা নিচ্ছে। এই সীমান্ত দিয়ে চোরাচালান ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য পুলিশ ও বিজিবি কর্তৃক বিভিন্ন সময় দায়েরকৃত চোরাচালান ও চাঁদাবাজি মামলার ১১জন আসামীকে বিজিবির সোর্স/লাইনম্যানের দায়িত্ব দিয়ে তাদের মাধ্যমে প্রতিদিন কোটি টাকার মালামাল পাচাঁর করার পাশাপাশি লক্ষলক্ষ টাকা চাঁদা উত্তোলন করা হচ্ছে বলে এলাকাবাসীর জোড়ালো অভিযোগ রয়েছে। এব্যাপারে লাউড়গড় ক্যাম্পের এফএস মাহফুজ বলেন,চোরাচালান ও চাঁদাবাজির বিষয়ে আমার জানা নাই,এব্যাপারে খোজ নিয়ে আপনাকে জানাব।
লাউড়গড়,বালিয়াঘাট,চাঁরাগাঁও ও কলাগাঁও গ্রামের ব্যবসায়ী সবুজ মিয়া,কামাল মিয়া,জসিম উদ্দিন,সাজুল হোসেন,তারা মিয়া,জীবন রহমান,ফিরোজ মিয়া,রবিন মিয়া,করিম মিয়াাসহ আরো অনেকেই বলেন,বিজিবি বিভিন্ন মামলার আসামীদের সোর্স/লাইনম্যান বানিয়ে তাদেরদেরকে দিয়ে সরকারের লক্ষলক্ষ টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে ওপেন চোরাচালান ও চাঁদাবাজি করছে।
চোরাচালান ও চাঁদাবাজির ব্যাপারে জানতে বীরেন্দ্রনগর বিজিবি ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার সুবেদার হাবিব(০১৭৬৯-৬১৩১২৫)এর সরকারী মোবাইল নাম্বারের বারবার কল করার পরও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
সুনামগঞ্জ ২৮ব্যাটালিয়নের বিজিবি অধিনায়কের সরকারী মোবাইল(০১৭৬৯-৬০৩১৩০)নাম্বারে কল করার পর ফোন রিসিভ করে একজন সৈনিক বলেন,স্যার এখন মিটিং নিয়ে ব্যস্ত,কথা বলতে পারবেন না।

 

 

About Asgor Ali Manik

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*