সংবাদ শিরোনামঃ

দুর্নীতি-অনিয়ম বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন (বাউবির)

পত্রপত্রিকা ও টিবি চ্যানেলের প্রতি আবেদন জানায়, যেন বাউবির দুর্নীতি অনিয়ম রোধে রির্পোট করেন। যমুনা টিবি, মাই টিবি ও তালাশ টিম যাতে দুর্নীতির আরও তথ্য সুকৌঁশলে খোঁজে বের করে সুস্পষ্টভাবে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দেশের অসংখ্যা শিক্ষার্থীকে বাউবির সর্বনাশ থেকে বাছিয়ে আনেন।
যেখানে নেই স্বচ্ছতা-নেই জবাবদিহিতা, সেইসব প্রতিষ্ঠানে এমনই ঘটে। ঘটে দুনীতি ও অনিয়ম। দুর্ভোগ লেগেই থাকে শিক্ষার্থীদের। সঠিক ফলাফল প্রকাশ করা হয় শিক্ষার্থীর জীবনের কাজে লাগানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলো নষ্ট করার পর, (৪ বছরে)। দুর্নীতির লক্ষ্যে অসংখ্যা শিক্ষার্থীর সঠিক ফলাফল আটকে রাখা হয় সেজন্য, করতে হয় অনশন। এইচএসসিতে জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ে এ পাওয়া এক শিক্ষার্থীর বাউবির ডিগ্রীতে বারবার অনুপস্থিত আর ফেল আসে। প্রথমবার বাংলায় পাসের রেজাল্ট হাতে পেল, শেষেবার অন্যান্য বিষয়ে পরীক্ষা দিলে বাংলার অনুপস্থিত রেজাল্ট এল। শিক্ষামন্ত্রাণালয়ের চাপেরমুখে কর্মকর্তারা বোর্ড বসে সচেতন মহলকে দেখানো হয় কিন্তু শিক্ষার্থীর সমস্যার সমাধান করলে তো তা দেখে অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও সচেতন হয়ে যাবে, অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে।
তাই বাউবির সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি উপাচার্য শিক্ষার্থীর ছোট সমস্যা সমাধান করবে বলে আশ^স্ত করে চট্টগ্রাম থেকে গাজীপুরে ডেকে নিয়ে যান কিন্তু কর্মকর্তার অপকৌঁশলের ফাঁদ ফন্দির কারণে কর্মকর্তার মন রক্ষার্থে সমাধান দেন না। সমাধান দিতে সেই কর্মকর্তাকেই ইঙ্গিত দেন। মানুষের ভুল হতে পারে কিন্তু ভুল শুধরে দিতে সরকারকে ফি দেওয়া হয়েছে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট এর আদালতের হলফনামা করতে। কিন্তু কর্মকর্তাদের কে মানেন এই হলফনামা। সেই হলফনামামূলে সনদপত্রের নাম সংশোধনের জন্য পত্রিকার বিজ্ঞপ্তির কপিসহ ২০১৬ সালে পাঠালে পরীক্ষা বিভাগ শিক্ষাথীর কলে বলেছেন, ‘এসএসসির সনদপত্র সংশোধন হয়েছে এইচএসসিরটা পরে হবে।’ এসএসসিটা আনতে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ে গেলে বলেন, ‘সংশোধন হয়নি।’ এরপর যুগ্ম পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ২০১৭ তে শিক্ষার্থীর কলের উত্তরে বলেছেন, ‘সংশোধন হচ্ছে হচ্ছে ২৬ অক্টোবর ২০১৭ এর পরে হয়ে যাবে।’ এরপরের কলে বলেন, ‘তুমি এসএসসির ওই শিক্ষার্থীদের দিয়ে কর্মকর্তাদের বহিস্কারের দাবী তুলে ২৫ মে ১৭ বিক্ষোভ-অনশন করিয়েছ। এতে ‘যুগ্ম পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের একটু ক্ষতি হয়েছে বলেছেন তিনি। এসএসসির ওই শিক্ষার্থীদের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিচালক বদরুল হায়দার চোধুরী বলেছিলেন, ‘যেহেতু প্রধান কার্যালয় থেকে অভিযোগের উত্তরও এসে গেছে তাই আর কিছুই করার নেই। সাংবাদিককে অভিযোগ জানালেও লাভ হবেনা বলে সাফ জানিয়ে দেন তিনি।’ অনশনের মাধ্যামে ফলাফল আদায়ের পরেরদিন শিক্ষার্থীর সামনে অঞ্চলিক পরিচালক বাউবির এক কর্মকর্তাকে বলেন, ‘সারাদেশে এরকম সমস্যায় পড়েছেন কয়েক হাজার শিক্ষার্থী চট্টগ্রামের অনশনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের ফলাফল ছিনিয়ে আনা হয়েছে।’ সারাদেশের ছিনিয়ে আনতে পারেনাই তারা আরো অনেক কষ্ট পাওয়ার পর পাস না করেই বাউবি ছাড়তে হবে, এটা বাউবির পূর্বের কাজেই অনুমেয়।
অনশনের বিষয়টি পত্রপত্রিকায় ও টিবি চ্যানেলে প্রকাশের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সঠিক ফলাফল আদায় করে এইচএসসিতে ভর্তি হতে পেরেছেন বিধায় শিক্ষার্থীদের অন্ধকারে নিক্ষিপ্ত করতে না পেরেই যুগ্ম পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এসএম নোমান আলম বলেন, ‘সন্তান পিতার বিরুদ্ধে গেলে পিতা কি সন্তানকে শাস্তি না দিয়ে ছাড়বে নাকি! তোমার হাতে কলম আছে আমার হাতেও কলম আছে, আমরা যতদিন সংশোধন না করবো ততদিন অপেক্ষা করতে হবে বলে ২০১৬ সমস্যা ২০১৮ চলছে সমাধান করেনি। এভাবে অসংখ্য শিক্ষার্থীর নাম সংশোধনের জন্য পাঠানো হয়েছে সেই সংশোধনী শীটের উপর শীটের ফাইল পড়ে থাকতে দেখাগেছে কার্যালয়ে। ওই সময় সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নাজনীন নেগার শিক্ষার্থীকে বলেছেন, ‘পাসের রেজাল্টসীট না আসার সমস্যাটা যখন হয়েই গেছে, পরে তা পাঠাব এর পরের বছর তুমি বিএতে ভর্তি হতে পারবে।’ শিক্ষার্থীকে কম্পিউটার রুমের এক কর্মচারী বললেন, ‘আগামী সাপ্তায় কিছু ফলাফল চট্টগ্রামে পাঠানো হবে তুমি যদি চলতি বছর বিএতে ভর্তি হতে চাও তাহলে কিছু অর্থ দিয়ে গেলে তা নোমান স্যারকে ও নাজনীন নেগার ম্যাডামকে দিয়ে ৮/১১/১২ এর আগে তোমার ফলাফল পাঠানো ব্যবস্থা করিব। এক বছর সময় নষ্ট না করার জন্য নিরুপায় শিক্ষার্থীর সাথে টাকা যাহা ছিলো সব ওই কর্মচারীকে দিয়ে দিল। এরপর ওই কর্মচারী রেজাল্ট আগামী সাপ্তাহে যাবে বলে বলে প্রায় ৮ মাস শেষ করলেন। এরপর থেকে শিক্ষার্থী সরাসরি কর্মকর্তাদের নিকট চিঠি পাঠানো শুরু করলেন, লিখলেন ৮/১১/১২ এর পরে ফলাফল পাঠানোর কথা ছিলো। এভাবে ৪ বছরে শতাধিক চিঠি পাঠানো হয়েছে সেই রশিদ দেখিয়ে উপাচার্যকে বিচারও দিলেছিলেন এই শিক্ষার্থী। তুমি যে বাংলায় পাস করেছ সেই ডকুমেন্ট আমরা পায়নি ডকুমেন্টটা আবার পাঠানো হয়। এই ইস্যুতে ৪ বছর পর পাসের রেজাল্ট প্রকাশ করেন। ২০১৬ তে সংশোধনী ফি দিয়ে পাঠানো হয়েছে। ২০১৭ তে আবার দরখাস্ত পাঠানোর সময় চট্টগ্রামের কর্মচারী মেজবাহ উদ্দিন শিক্ষার্থীকে বলেন, ‘আবার সংশোধনী ফি দিয়ে আস।’ শিক্ষার্থীর থেকে আদায় করা অর্থ ফেরৎ চান, এবং ৪ বছর পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট করেছে তা ফেরৎ চান।

 

About Asgor Ali Manik

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*