সংবাদ শিরোনামঃ

প্রধান শিক্ষকের অবহেলায় হৃদয়ের উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেল !

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ
হৃদয়ের উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেল সহপাঠিরা সকালে যখন পরীক্ষার কেন্দ্রে যাওয়ায় প্রস্তুতি নিচ্ছিল হৃদয়ের চোখে তখন অনবরত জল ঝরছিল। আজ নয় কাল প্রবেশপত্র দেয়া হবে বলে কয়েকদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের দ্বারে দ্বারে ঘুরে যখন গত রাতেও হাতে পাননি প্রবেশপত্র তখনই বুঝে গিয়েছিল আর পরীক্ষা দেয়া হবে না তার। এর পর থেকে শুধু কেঁদেই যাচ্ছে সে।

হৃদয় উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের উজিলাব গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের ছেলে। শ্রীপুর উপজেলার আনসার টেপিরবাড়ি উচ্চবিদ্যালয় থেকে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার কথা ছিল তার।

চার ভাইয়ের মধ্যে হৃদয় সবার ছোট। পরিবারের সকল সদস্যরা কৃষি কাজের সাথে যুক্ত থাকলেও তাদের স্বপ্ন ছিল হৃদয়কেই ঘিরে। বাবা ও বড় তিন ভাই হৃদয়কে ঘিরেই জীবন যুদ্ধে নেমেছেন। হৃদয় পড়ালেখা করে মানুষের মতো মানুষ হবে এমন স্বপ্ন তার পরিবার দেখলেও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের খেয়ালীপনায় এখন পরিবারের সবার মধ্যে অন্ধকার নেমে এসেছে।

হৃদয় জানান, এসএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহনের লক্ষ্যে সে নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে উর্ত্তীণ হয়ে ফরম পূরণের জন্য পাঁচ হাজার পাঁচশত টাকা জমা দিয়েছিল। এর মধ্যে সবাই প্রবেশপত্র পেলেও প্রধান শিক্ষক গত চার পাঁচদিন ধরে তাকে ঘুরাচ্ছিল প্রবেশপত্র দিবেন বলে। তার অনেক স্বপ্ন ছিল উচ্চ শিক্ষার মাধ্যমে বাবা ও ভাইদের কষ্ট লাগব করার। এখন সবই চোরেবালিতে আটকে গেছে।

হৃদয়ের মা মমতাজ বেগম (৫০) জানান, ছেলেটার পড়ালেখার প্রতি খুব আগ্রহ ছিল। তার আগ্রহ দেখে তাকে কোন কাজে যেতে দিতাম না। এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের টাকা যোগাড় করতে খুব কষ্ট করতে হয়েছে। পাড়া প্রতিবেশীদের কাছ থেকে ধারদেনা করে ফরম পূরনের টাকা যোগাড় করতে হয়েছে। তারপরও সে পরীক্ষা দিতে পারেনি। সঠিক সময়ে ফরম পূরণের টাকা দেয়ার পরও প্রধান শিক্ষক মোস্তফা কামালের চরম গাফিলতির জন্যই হৃদয় পরীক্ষায় অংশগ্রহন করতে পারে নাই। তিনি ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত করে দায়ী প্রধান শিক্ষকের বিচার দাবি করেন।

এব্যাপারে টেপিরবাড়ী আনসার উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মোস্তফা কামালের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

শ্রীপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, ঘটনা জানার সাথে সাথে প্রধান শিক্ষকের সাথে যোগাযোগ করে প্রবেশ পত্র না পাওয়ার বিষয়টি লিখিত ভাবে জানাতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

About Asgor Ali Manik

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*