সংবাদ শিরোনামঃ

শিক্ষিত হয়েছে ঠিকি কিন্তু মানুষ হলো না: মা্হবুবুর রহমান দুর্জয়

সিটিজি ক্রাইম নিউজ ডেস্ক:মানুষ যখন নিরুপায় হয় তখনি কিছু কিছু মানুষের কাছে অসহায় হয়ে উঠে। যাদের কাছে বিপদের সময় নিজের অসহায়ত্বের কথা বলবে সেই তারাই সুযোগ বুঝে অসহায় মানুষগুলোকে হাতাতে থাকে। হাতিয়ে কিছু না পেলে ভিক্ষুকের মত আচরণ করে বলবে আমার কিছু করার নাই রাস্তা মাপো।
যারা নিরুপায় হয়ে উপায় খুঁজতে এদিকওদিক ছুটাছুটি করে তাদেরকে কি দিবে একটা উপায় বের করে? কে?
মানুষ সর্বশেষ নিরুপায় হয় তখনি যখন মৃত্যু তাদেরকে হাতছানি দিয়ে ডাকে। মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীরা যখন রোগব্যাধিতে ভুগেন তখন তাড়া রোগ মুক্তির উছিলা হিসেবে ডাক্তারের কাছে যায়। আর সেই উছিলা যখন দুর্নীতিগ্রস্ত হয়, লোভ লালসার স্বপ্নে বিভোর থাকে, সেবার নামে অধিক অর্থের অনিয়ম করে তখন নিরুপায় অসহায় মানুষগুলোর কি করার আছে বা থাকে।
শুধু আমি নয়, বাংলাদেশের নিন্ম ও মধ্যবিত্ত প্রতিটি পরিবারের সবাই ডাক্তারদের নিয়মিত অনিয়মের ভুক্তভোগী। ডাক্তারদের অপেশাদারি আচরণ ও অহংকারী মনোভাবে কতো কেউ জীবন দিলো সে হিসেব অনেক লম্বা। টাকার কাছে আর শক্তির কাছে যারা হার মানে তারাই অসহায় আর নির্যাতিত হয়। কেউ কেউ হৃদয়ের রক্তক্ষরণে পরাজিত হয়ে মৃত্যুর কাছে হার মানে। তবে পৃথিবীর সব ডাক্তাররা এমন হয় না, সব দেশের ডাক্তাররা অসহায় মানুষদের হাতায় না। অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে বিত্তশালীও হয় না। অন্যদেশের ডাক্তাররা ডাক্তারি করার জন্য শহর খুঁজেন না, তারা সেবা দিতে সর্বদা সবখানে প্রস্তুত থাকেন।
অথচ আমাদের প্রিয় বাংলাদেশে ১,৪৭, ৫৭০ বর্গকিলোমিটারের ভিতরে যতো মহাজ্ঞানী ডাক্তার আছেন তারা উপজেলায় সেবা দিবে না। যারা উপজেলায় আছেন তারা রোগী গেলেই কোন রোগ নির্ণয়পর দরকার মনে করেন না, শুধু প্রেসক্রিপশন ধরিয়ে দেওয়া হয় মাত্র। যা উন্নত বিশ্বে কোন একজন ডাক্তার চিন্তাও করতে পারেনা! এখানেই শেষ নয়, একই অসুখের জন্য পাঁচজন ডাক্তারের কাছে যান পাঁচ রকম ঔষুধ দিবে এবং রোগের ধরন ভিন্ন বলবে!
বাংলাদেশের পুরনো ধারার পদ্ধতিতে চিকিৎসা ব্যবস্থা যা জন্মের পর থেকেই দেখে আসছি তা এতো তাড়াতাড়ি বদলাবে কিভাবে। আমাদের দেশে ডিগ্রী নিতে পারলেই চলে, সেবা দিয়ে কি হয়। কি হবে? মানবিকতা যখন লোভ লালসায় পরিণত হয় তখন সেখানে সেবা বলে কিছু থাকে না।
তবে চলমান এই নিয়মের লাগাম টানতে হবে, তা নাহলে আমরা বীরের নয় কসাইয়ের জাতিতে পরিণত হবো। বিশ্ববাসী আমাদেরকে কসাই উপাধি দিবে। অবশ্যই এই ধারার পরিবর্তন হওয়া জরুরী। ডাক্তাররা রোগিদের সাথে কিভাবে সৌজন্যমূলক ব্যবহার করবে অবশ্যই তার একটা ট্রেইনিং থাকতে হবে! এক একজন অসুস্থ রোগী একজন ডাক্তারের কাছে যেন অবশ্যই ঈশ্বর স্বরুপ হোন সেই মনোভাবাপন্ন হতে হবে!
ভুলে গেলে চলবেনা যে বাংলাদেশের মানুষ কিন্তু প্রকৃত বীর, বীরের জাতি। প্রিয় ডাক্তার ভাইয়েরা আন্তরিক হোন, মানবিক হোন। ইতিহাসের এই বীরের জাতিকে কসাই জাতি বানাবেন না। অনুরোধ॥

মাহাবুব রহমান দুর্জয়
লেখক- রাজনীতিক, সংগঠক ও সমাজসেবক

About Asgor Ali Manik

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*