সংবাদ শিরোনামঃ

কর্ণফুলীর বিএফডিসি সড়ক খানাকন্দকে ভরপুর জনভোগান্তি চরমে, সংস্কারে মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা…

সেলিম চৌধুরী,,পটিয়া॥

চট্টগ্রামের দক্ষিণ জেলার প্রবেশদ্বার নবসৃষ্ট কর্ণফুলী উপজেলার বিভিন্ন সড়ক জুড়ে মাঝে মাঝে ডোবা আকৃতির বড় সব গর্ত! হঠাৎ কোন আগন্তুক আসলে বুঝতেই পারবে না এটি একটি শিল্পাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। এ সড়ক গুলো খানাকন্দকে ভরপুর। সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, কিছুক্ষণ গাড়ী না চললে কোন আগন্তুক মনে করবে এটি মৌসুমি মৎস্য ব্যবসায়ীদের কোন মাছের প্রজেক্ট। এটি হচ্ছে কর্নফুলী উপজেলার চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের শিল্পনগরী বিএফডিসি সড়কের এ করুণ দশা। কর্ণফুলী উপজেলার ইছানগর বিএফডিসি সড়কের পুরাতন ব্রীজঘাট বাজার থেকে বিএফডিসি গেইটের মুখ পর্যন্ত প্রায় আধা কিলোমিটারজুড়ে সড়কের এ করুণ অবস্থা।
সড়কের বিভিন্ন জায়গায় পিচ-খোয়া উঠে গিয়ে সড়কের অস্থিস্বই নষ্ট হওয়ার পথে। কোথাও পিচের চিহ্নমাত্র নেই। কোথাও ছোট, কোথাও বড় গর্ত। তাতে বৃষ্টির পানি জমে যেন সড়কের মাঝে ডোবায় পরিণত হয়েছে। এবড়োখেবড়ো এ সড়কে হেলেদুলে ঝুঁকি নিয়ে চলে যানবাহন। যখন তখন সড়কের গর্তে মাল বোঝাই ট্রাক আটকে যায়। শুরু হয় যানজট। কর্দামক্ত ভাঙা এ সড়কে হেঁটে চলারও উপায় নেই। ফলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় যাত্রীদের। এ সড়ক সংস্কারের দাবীতে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও ব্যবসায়ীরা গত সোমবার দুপুর দেড়টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে। এরপর এস আলম টার্মিনাল থেকে বড় বড় কিছু ইটের খোয়া এনে বিকেলে ফেলা হয়। এতে বিভিন্ন পরিবহনের যাতায়াতে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটে।
জানা যায়, ইছানগরে দুইটি সিমেন্ট ফ্যাক্টরি ও সুগার মিল সহ শতাধিক ভারী ও মাঝারি শিল্প কারখানা রয়েছে। সড়ক পথে ইছানগর যাওয়ার একমাত্র সড়ক এটি। ফলে সারাক্ষণই এ সড়কে যানবাহনের চাপ থাকে। প্রতিদিন বাস-ট্রাক-অটোরিকশাসহ হাজারের বেশি যানবাহন চলাচল করে এ সড়ক দিয়ে। কিন্তু সড়কটিতে সংস্কার নেই দীর্ঘদিন। স্থানীয়দের অভিযোগ স্থানীয় ডায়মন্ড সিমেন্ট, এস আলম ট্যাংক টার্মিনাল, মাসুদ ফিস, বিন হাবীব, প্রিমিয়ার সিমেন্ট, কর্ণফুলী ডকইয়ার্ড, সিরিসেডো ও পেনিনসোলাসহ অর্ধশতাধিক কোম্পানীর শত শত ভারী যানবাহন এ সড়ক দিয়ে চলাচল করে। এতগুলো শিল্পকারখানা থাকার পরও সড়কটির উন্নয়নে কেউ এগিয়ে আসছেনা। বেসরকারীভাবে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো এগিয়ে আসছে এটি একটি সুন্দর সড়ক করা যায়।
এ বিষয়ে দোহাজারী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তোফায়েল মিয়া জানান, এ সড়কটি সংস্কারের জন্য আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে। সামনে ফান্ড পেলে সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হবে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পুরাতন ব্রীজঘাট কাচা বাজার থেকে আজিম পাড়া ডাকঘর ও আলমগীর কোল্ড ষ্টোরের সামনে সড়কজুড়ে ছোট-বড় গর্ত ও খানাখন্দ। তাতে পানি জমে ডোবায় পরিণত হয়েছে। রাস্তা এবড়োখেবড়ো হয়ে যাওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন।
এ বিষয়ে কর্ণফুলী উপজেলা পরিষদের নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও দক্ষিণ জেলা আ’লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ফারুক চৌধুরী বলেন, লম্বা বৃষ্টি প্রায় সব জায়গায় রাস্তাঘাটের অবস্থা খারাপ। অনেক বড় বড় লিল্প কল কারখানা এই রাস্তার সাথে সংযুক্ত। এই রাস্তার অংশ বিশেষ বড় বড় শিল্পের দিক বিবেচনা করে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতু ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কাজ হয়েছে। নতুন উপজেলা আমাদের জনদূর্ভোগের কারনেই তো আমাদের মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় অসাধ্য সাধন করেছেন। সত্যিকার অর্থে জনগুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটি জনগণের ব্যবহার উপযোগী নেই। আমাদের ভূমিপ্রতিমন্ত্রী দ্রুত মেইনটেইনেন্সের জন্য ডিও দেবেন। তিনি আরো বলেন স্থানীয় শিল্প মালিকগণ একটু সহানুভূতিশীল হলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং আমাদের নেতৃবৃন্দ সড়কটি সংস্কারের জন্য এগিয়ে আসলে সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় শ্রীঘ্রই এই রাস্তা জনগণের চলাচল উপযোগী করা সম্ভব।
কর্ণফুলী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও স্থানীয় বাসিন্দা শাহেদুর রহমান শাহেদ বলেন- সড়কটির শোচনীয় অবস্থা ইতোমধ্যে মাননীয় ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ মহোদয়ের পিএস সায়েম ভাই ও উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক ভাই সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। তাঁরা সংস্কার কাজ দ্রুত করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন। কর্ণফুলী উপজেলার ইছানগর বিএফডিসি সড়কের পুরাতন ব্রীজঘাট বাজার থেকে বিএফডিসি গেইটের মুখ পর্যন্ত প্রায় আধা কিলোমিটারজুড়ে এ অবস্থা।
ব্যবসায়ী ইমরান পাটোয়ারী বলেন, র্দীঘদিন ধরেই রাস্তার এই বেহাল দশা। সড়কের ওপরে ছোট-বড় যেসব ডোবা তৈরি হয়েছে, সেখানে মাছ চাষ করা যাবে। কাদার যন্ত্রণা তো আছেই। ইছানগর চার রাস্তার মোড়ের চায়ের দোকানদার মো: বেলাল বলেন, এ রাস্তায় চলতে খুবই কষ্ট হয়। বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ রোগীদের ও বয়স্ক ব্যক্তিদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

About Jesmin Nahar

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*