সংবাদ শিরোনামঃ

আজ ২১ আগস্ট, ভয়াবহ হামলার ১৩ বছর

নিজস্ব প্রতিবেদক :: আজ ২১ আগস্ট। ঠিক ১৩ বছর আগের এইদিন বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে মুহুর্মুহু গ্রেনেড বিস্ফোরণে শহীদ হন ২৪ জন নেতা-কর্মী। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী (বর্তমান প্রধানমন্ত্রী) শেখ হাসিনা উপস্থিত থাকলেও অলৌকিভাবে বেঁচে যান তিনি।

আওয়ামী লীগের সমাবেশকে কেন্দ্র করে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের চারদিকে হাজার হাজার নেতা-কর্মীর উপস্থিতি ছিল। নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিতে ধীরে ধীরে মহাসমাবেশে রূপ নেয়। সমাবেশ শেষে সন্ত্রাসবিরোধী মিছিল নিয়ে ধানমন্ডি-৩২ নম্বর বঙ্গবন্ধুর বাসভবনের সামনে যাওয়ার কথা নির্ধারিত ছিল। তাই মঞ্চ নির্মাণ না করে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে একটি ট্রাকে অস্থায়ী মঞ্চ করা হয়। বুলেটপ্রুপ মার্সিডিজ বেঞ্জ চেপে বিকেলে ৫টার একটু আগে সমাবেশস্থলে আসেন শেখ হাসিনা। সমাবেশে অন্য নেতাদের বক্তব্যের পর শেখ হাসিনা বক্তব্য দিতে শুরু করেন।

সময় তখন ৫টা ২২মিনিট। ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলে বক্তৃতা শেষ করে শেখ হাসিনা তার হাতে থাকা একটি কাগজ ভাঁজ করতে করতে এগোতে থাকেন। ট্রাক থেকে নামার সিঁড়ির কাছে। মুহূর্তেই ঘটে যায় নারকীয় গ্রেনেড হামলা। একের পর এক বিস্ফোরিত হতে থাকে গ্রেনেড। আর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ মুহূর্তেই পরিণত হয় মৃত্যুপুরীতে। ভেসে যায় রক্তের বন্যায়। আহাজারিতে প্রকম্পিত হয়ে আকাশ-বাতাস।

সেদিন পরিস্থিতি বিবেচনায় ট্রাকে অবস্থানরত নেতা এবং শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মকর্তারা মানবঢাল রচনা করে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করেন বঙ্গবন্ধু কন্যাকে। সেদিন তাদের পরম আত্মত্যাগ ও সৃষ্টিকর্তার অশেষ কৃপায় অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সেদিন ঘাতকরা শুধু তেরোটি গ্রেনেড মেরেই থেমে যাননি, শেখ হাসিনার গাড়িকে টার্গেট করে বৃষ্টির মতো গুলি ছুঁড়ে। সেদিন শেখ হাসিনাকে আড়াল করে বুলেটের সামনে দাঁড়িয়ে জীবন বিলিয়ে দেন তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী ল্যান্স করপোরাল (অব.) মাহবুবুর রশীদ। গ্রেনেড হামলায় ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে গিয়েছিলেন অনেকেই। আকস্মিক মৃত্যু আর রক্তস্রোতে মানুষের শরীরের বিভিন্ন অংশ বিচ্ছিন্ন অংশ চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে। রক্তে ভিজে লাল হয়ে যায় পিচঢালা পথ।

তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলের এই ঘটনায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন ১৬ জন। নারী নেত্রী আইভি রহমান ৫৮ ঘণ্টা মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে ২৪ আগস্ট মারা যান। আহত হওয়ার পর প্রায় দেড় বছর মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে হেরে যান আওয়ামী লীগ নেতা ও তৎকালীন ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ হানিফ। রক্তাক্ত-বীভৎস ওই ভয়াল গ্রেনেড হামলায় নিহত অন্যরা হলেন-মোশতাক আহমেদ সেন্টু, হাসিনা মমতাজ রিনা, রিজিয়া বেগম, রফিকুল ইসলাম, রতন শিকদার, মোহাম্মদ হানিফ ওরফে মুক্তিযোদ্ধা হানিফ, লিটন মুনশি, আবদুল কুদ্দুছ পাটোয়ারী, বিল্লাল হোসেন, আব্বাছ উদ্দিন শিকদার, আতিক সরকার, মামুন মৃধা, নাসির উদ্দিন সরদার, আবুল কাসেম, আবুল কালাম আজাদ, আবদুর রহিম, আমিনুল ইসলাম মোয়াজ্জেম, জাহেদ আলী, মোতালেব ও সুফিয়া বেগম। আর আহত হয়েছিলেন-প্রয়াত রাষ্ট্রপতি (তৎকালীন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য) জিল্লুর রহমান, প্রয়াত আবদুর রাজ্জাক, ঢাকার প্রাক্তন মেয়র প্রয়াত মোহাম্মদ হানিফ, আমির হোসেন আমু, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, ওবায়দুল কাদের, অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর, কাজী জাফর উল্ল্যাহ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, পংকজ দেবনাথ, সাঈদ খোকন, নজরুল ইসলাম বাবু, নাসিমা ফেরদৌসী, শাহিদা তারেক দিপ্তী, উম্মে রাজিয়া কাজল, আসমা জেরিন ঝুমু, রাশেদা আক্তার রুমা, আবুল হোসেন মোল্লা, মামুন মল্লিক, কাজী মোয়াজ্জেম হোসেইন, হামিদা খানম মনিসহ পাঁচ শতাধিক আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী।

দিন উপলক্ষে পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দিবসটি শোকাবহ পরিবেশে পালনে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তন (খামারবাড়ী, ফার্মগেইট) দলের উদ্যোগে এক আলোচনা সভা হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বক্তব্য রাখবেন দেশবরেণ্য বুদ্ধিজীবী ও জাতীয় নেতারা।

About Jesmin Nahar

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*